পুঁজিবাজারে লেনদেন--
- ৮৪ ভাগ কোম্পানির দর উত্থান, পতন ১১
- লেনদেন ডিএসইতে ১০৫০ কোটি, সিএসইতে ৩৭ কোটি
- সেরা ডিএসইতে বেক্সিমকো, সিএসইতে বেক্সিমকো ফার্মা
ইউক্রেনে হামলার বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরুতে উত্থান থাকলেও শেষে সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ৮৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীকে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিলে ইউক্রেনে মিশাইল হামলা চালায়। রাশিয়ার বিমান হামলাও করছে কিয়াভে। এতে দেশটির সাধারণ জনগনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এ সংবাদ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়। যুদ্ধের রোষানলে যেন দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ যুদ্ধের সংবাদে আতঙ্কিত হয়ে দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করা শুরু করে। ফলে দিন শেষে বড় ধরনের সূচক পতনে লেনদেন হয়েছে বলে জানায়িছে অনেকেই।
পুঁজিবাজারে (দুই স্টক) এদিন ৮৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৮৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সিএসইর ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে জ্বালানি শক্তি, আইটি, পাট, সেবা আবাসন, চামড়া এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এরপর ব্যাংক, নন ব্যাংকিং আর্থিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিরামিক, সিমেন্ট, খাদ্য আনুষঙ্গিক, বিমা, বিবিধ, পেপার, ওষুধ রসায়ন, বস্ত্র এবং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৯৫ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৯৫ শতাংশ, বিমা খাতের ৯৫ শতাংশ, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ৯১ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৮৮ শতাংশ, বিবিধ খাতের ৮৫ শতাংশ, পেপার খাতের ৮৩ শতাংশ, ওষুধ রসায়ন খাতের ৮৪ শতাংশ, সিরামিক খাাতের ৮০ শতাংশ, ভ্রমন অবসর খাতের ৭৫ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের ৭১ শতাংশ এবং বস্ত্র খাতের ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের কমাকে স্বাভাবিক না হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৮৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ৩২৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২১টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৯ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ২২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫১৪ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৭২ পয়েন্টে।
অপরদিকে সিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ২৫৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৬টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩২২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৯১ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসই-৫০ সূচক ২৩ দশমিক ৫২ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২১৫ দশমিক ৯২ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৯২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ১৪৭ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৯৯৯ দশমিক ২৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৪৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।








