মানুষ নিরুপায়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছেই। সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। দিশেহারা হয়ে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। রমজান এখনো অনেক সময় বাকি। তার আগেই বাজার পরিস্থিতি বেসামাল। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের অজুহাতে ভোগ্য তেলের দাম একলাফে মণপ্রতি চারশ টাকা বেড়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তেলের দাম বাড়ার কারণটা কি? ইউক্রেন থেকে তো ভোজ্য তেল আসে না। এছাড়া যুদ্ধ শুরু হল মাত্র ক’দিন। আর যে তেল বাজারে ছাড়া হচ্ছে তা আনা হয়েছে কয়েক মাস আগে। তখন তো বিশ্বের এই পরিস্থিতি ছিল না। তেলের বাজারে দাম কম ছিল। যদি বিশ্ব বাজারে দাম বেড়েই থাকে তার প্রভাব বা সেই সময় থেকে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগার কথা। এখন দাম এত বাড়বে কেন? এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। দাম বাড়ছেই।
আমদানি করা সোয়াবিন ও পাম তেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে উৎপাদিত সরিষা তেলের দামও বেড়েছে সমান তালে। সরিষা বা সরিষা তেল আমদানি করা হয় না। দেশে উৎপাদিত সরিষা দিয়েই এই তেল হচ্ছে। সেখানে সরিষা তেলের দাম বাড়ার হেতু কি? কোনো কারণ এখানে নেই। তারপরও বাড়ানো হয়েছে। বাজারে ক্রেতারা বাড়ানো দামেই সরিষার তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এটিও দেখার কেউ নেই। একই অবস্থা ব্রয়লার ও সোনালি বা ফাওমি মুরগির দামে। হঠাৎ কেজি প্রতি বেড়েছে ২০/৩০ টাকা। কাঁচাবাজারের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নেই। ভরা মৌসুমে যেখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি বাজারে পাওয়া যাওয়ার কথা ১০ থেকে ১৫ টাকায় সেখানে ৪০/৫০ টাকার নিচে কোনো কপি এবার পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে কপি বিক্রিই হতো না। গরুকে খাওয়ানো হতো। সেখানে কপির বাজার এখনো চড়া। কোনোভাবেই দাম কমছে না। গাজর এমনকি মূলাও এর বাইরে আসতে পারেনি। আর শিম, বরবটি, লাউ- এসব তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ৬০ টাকার নিচে কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না। পেঁয়াজের দাম তো একদিনেই ১৫ টাকা বেড়ে ৫৫/৬০ টাকা হয়েছে। ডাল, ছোলা, আটা, মসলা এসবের দামও বেড়েছে।মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। চালের দামসহ খাদ্য খাবারের দাম তো বাড়ছেই। সামনে রমজান। মানুষের কী হবে কে জানে। সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কয়েকজন মন্ত্রী এই বাজার অবস্থা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলেছেন। এক কোটি মানুষকে টিসিবির নির্ধারিত মূল্যের তেল, চাল,ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ দেয়ার কথা বলেছেন। সেটিতে বাজার পরিস্থিতি সামাল কতটুকু দেয়া যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এক্ষেত্রে এক সময়ের মতো কার্ড দিয়ে রেশন চালু করা যায় কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে রমজান মাস ও ক্রাইসিস সময়ে এধরণের উদ্যোগ কালোবাজারী এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাজারকে রক্ষা করবে। আগামীবছর নির্বাচনের মৌসুম তার ওপরও এই জিনিসপত্রের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। যা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে এখন থেকেই ভাবতে হবে। মানুষকে নাজুক অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি দিতে হবে। মানুষের যে অবস্থা তা উপলব্ধি করতে হবে।








