ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং নদীর পানির গুণমানের অবনতি বাংলাদেশের জন্য এক উদ্বেগজনক সমস্যা। পোশাকশিল্প বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক অর্থ উপার্জনকারী শিল্পখাত হলেও বার্ষিক পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। এক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বৃষ্টির পানি ব্যবহার বাড়ালে বিপদের মাত্রা কমে আসবে।
আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক প্রতিবেদন মতে, বস্ত্রশিল্পে প্রতিদিন প্রায় ৪১১ কোটি লিটার পানি দরকার। বছরে যা প্রায় ১৫০০ বিলিয়ন লিটার বা এক লাখ ৫০ হাজার কোটি লিটার। এই পরিমাণ পানি দিয়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষের সারাবছরের পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় এক কেজি পোশাকপণ্য ধৌত করতে ২৫০ লিটার পানি ব্যবহার করা হয়। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর পরিমাণ মাত্র ৬০-৭০ লিটার।
তবে এলেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের তথ্যানুসারে, তৈরি পোশাক শিল্প বছরে ৯ হাজার ৩০০ কিউবিক মিটার পানি ব্যবহার করে। যা দিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ অলিম্পিকের সুইমিং পুল ভরানো সম্ভব হবে।
এমন পরিস্থিতিতে পানি সরবরাহে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। সে জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু করার মাধ্যমে সবুজনীতি প্রণয়নের দাবি ওঠেছে।
‘শিল্প খাতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ- পানি ব্যবস্থাপনায় টেকসই পদক্ষেপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা পানির ব্যবহার নিয়ে আগামীর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। রাজধানীর একটি হোটেলে গত মঙ্গলবার এর আয়োজন করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ায় আসন্ন সংকট সমাধানে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা উচিত। শিল্প খাতের ক্ষেত্রে কারখানাগুলোর ছাদের ওপরে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে সহজেই বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা যায়।
বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বিজিএমইএ টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কারখানাগুলোকে উৎসাহিত করছে। ব্যবসায়িকভাবে শিল্প খাতগুলোর বৃষ্টির পানির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাশন ও সেটির ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বায়লা) সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম বলেন, টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অনেক স্মার্ট শিল্পকারখানা কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যৎ বিপর্যয় প্রতিহতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কারখানায় বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/শহক








