ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টানা বৃষ্টিতে আগাম বপনকৃত আলুর প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়। এর মধ্যে উপজেলার বীরতারা এলাকায় আগাম আলু চাষে শতশত কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার কুকুটিয়া, তন্তর ও আটপাড়া এলাকায় আলু চাষিরা লোকসানের পাশাপাশি বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন। তবে নানামুখী সংকটের মধ্যেও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের নিচু জমিগুলোর মধ্যে অনেক স্থানে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আলু বপনের সময় চলে আসায় কিছুটা কাঁদাযুক্ত জমি আগাম আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একটি হালকা চাষ দিতে পারলে জমি দ্রুত শুকাবে। জমি চাষের পাশাপাশি কোনো কোনো জমিতে পুনরায় আলুবীজ বপন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন খাল-বিল, সেতু-কালভার্টের মুখ ভরাটের কারণে নিদিষ্ট সময়ে ফসলি জমির পানি নিস্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে দিনদিন এখানকার কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়ছে।
বীরতারা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন, সেলিম, তোফাজ্জাল মোল্লা, জামাল হাওলাদার বলেন, গত বছরের লোকসান এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। চলতি বছর আলু চাষের শুরুতেই বৃষ্টিতে লোকসানে পড়েছি। ধারদেনা ও ঋণ করে পুনরায় আলু চাষ করেছি।
কুকুটিয়া এলাকার কৃষক আলম মোল্লা বলেন, এখানকার আলু জমিগুলো নিচু। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় আলু বীজ বপনে কমপক্ষে এক মাসের বিড়ম্বনায় পড়েছি। চলতি মৌসুমে ৭ কানি জমিতে (১৪০ শতাংশ হিসাবে ১ কানি) আলু চাষের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে বৃষ্টির কারণে জমিতে ছিটানো প্রায় ৫০ বস্তা সার নষ্ট হয়ে গেছে। দুই সপ্তাহ পরে জমিতে পুনরায় চাষ দিচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে হয়ত জমিতে আলু বীজ বপনের কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বীরতারা, তন্তর, আটপাড়া ও কুকুটিয়া ইউনিয়নে আলু চাষ বেশি হয়। মোট ২২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পর পুনরায় বীজ আলু, জমি হাল চাষ, সার ও শ্রমিক মজুরিসহ অন্যান্য খরচ শেষে আলু চাষে কৃষকদের দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। সে হিসেবে জমিতে কৃষকের উৎপাদিত প্রতিমণ আলুর দাম পড়বে কমপক্ষে ৮০০ টাকা ।








