নদীর কান্না বাড়ছেই। আজ দৈনিক আনন্দবাজারের প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত খবর এটি। আসলে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে নদী খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সে নিয়ে এখনই শংকা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় নদীর নাম আছে যা শুধু লোক মুখেই শোনা যায় কিন্তু নদী নেই। আবার অনেক এলাকায় নদী বয়ে যাচ্ছে, কিন্তু নদীতে পানি নেই। অনেক এলাকায় খরস্রোতা নদী দিয়ে এখন খাল বা ড্রেনের পানি বয়ে যাচ্ছে।
যদিও খবরে বলা হয়েছে- পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে দেশে নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ৩১০টি। এই নদী দেশের প্রকৃতিতে যেমন সৌন্দর্য বহন করে চলেছে। পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। তেমনি দেশের কৃষি ও মৎসখাতকে সমৃদ্ধ করে তুলছে। কিন্তু সেই নদী এখন হারিয়ে যাওয়ার আশংকায়। দেশের বেশিরভাগ খরস্রোতা, বহমান নদী এখন মরা খাল, ধু-ধু বালুচর অথবা ফসলি খেতে পরিণত হয়েছে। নাব্যতা হারিয়ে নদীতে এখন হাঁটুপানি। বর্তমানে কোনোভাবে বেচে আছে যে ২৩০টি নদী, তারমধ্যেও ২৫টির অবস্থা করুণ বলে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের নদীগুলোর এই দুর্দশার কারণ বহু আগে থেকেই বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বহু আগে থেকেই নদী বাঁচাতে সতর্ক করে আসছে। নদীর এই দূরাবস্থার কারণগুলো জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নদীর সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে এবিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ, রাষ্ট্রীয় নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে আসছিল। দেশের নদ নদীগুলোর দুরাবস্থা, অবক্ষয় এবং নদী হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এর আগের সরকারগুলো সবসময়ই ছিল উদাসীন। যে কারণে আভ্যন্তরীণ বেশকিছু কারণে নদী যেমন দুরাবস্থায় পড়েছে তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশের কারণেও দেশের নদীগুলো দুর্দশায় নিপতিত। যেসব নিয়ে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সবসময়ই সোচ্চার এবং প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে আসছে। কিন্তু সরকার এব্যাপারে কতটুকু সতর্ক তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। নদী নিয়ে সরকারের কোনো দপ্তর এখন কাজ করে বলে তো মনে হয় না। নদী ভবন এখন পানি ভবন হয়েছে। বিশাল অট্টালিকা দেখা যায়। সে ভবনের কাজ কি তাও বোধগম্য নয়।
আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই বা কাজ কি তাও বোধগম্য নয়। শোনা যায় নদী যত ভাঙে পাউবোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের আয় নাকি ততো বাড়ে। নদীশাসন আর নদী ভাঙনে সরকারের বিশাল বাজেট দেয়া হয়। নদী খননেও বিশাল বাজেট আছে। কিন্তু সেসব কোথায় যায়, কী হয় তা কে জানে। নদীর পাড় দখল হচ্ছে দেখার কেউ নেই। নদীর পাথর, বালু তুলে নেয়া হচ্ছে দেখার কেউ নেই। নদীর চর দখল হচ্ছে দেখার কেউ নেই। নদীতে মেশিন বসিয়ে দিনের পর দিন ড্রেজিং হচ্ছে দেখার কেউ নেই। নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে দেখার কেউ নেই। সেচের জন্য নদীর পানি টেনে নেয়া হচ্ছে দেখার কেউ নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই নদী নিয়ে ঐ গানটির মতই প্রশ্ন করতে হয়, একটি কথা জিগাই শুধু তোমারে, নদী তুমি কার? নদীর অভিভাবকই বা কে?








