অর্থ আত্মসাতসহ ১৮ সংগঠনের নীতিমালার বিরুদ্ধে অবস্থান, বিভিন্ন শিল্পী-কুশলীকে হয়রানি করা, মিথ্যা মামলা দেয়া এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করার অভিযোগে চিত্রনায়ক ও শিল্পী সমিতির নেতা জায়েদ খানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তাকে বয়কট করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন। আজ বুধবার এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, আপনারা জানেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ বছরের শুরুর দিকে আমরা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন একত্রে মিলিত হয়ে ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করি। তবে সব সমিতি এই কমিটির নীতিমালার সাথে একমত পোষণ করলেও ব্যক্তি স্বার্থের কারণে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এর বিরোধিতা করে। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে সমাঝোতা করার চেষ্টা করলেও তারা আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, এই নীতিমালার বিরুদ্ধে সরাসরি জায়েদ খান বিরোধিতা করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিল্পী-কুশলীকে হয়রানি করা, মিথ্যা মামলা দেয়া এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করার অনেক অভিযোগ এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিলের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খরচের জন্য নগদ ৬ লক্ষ টাকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সরাসরি গ্রহণ করেন। কিন্তু জাতীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত অর্থ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু, জায়েদ খানকে বারবার চিঠি দিয়ে সভায় উপস্থিত থেকে ৬ লাখ টাকার হিসাব প্রদান করার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি কোনো সভায় উপস্থিত হননি এবং হিসাবও দেননি।
এ কারণে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠনের এক জরুরি সভায় জায়েদ খানকে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকাণ্ড থেকে বয়কট অর্থাৎ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তার সাথে কেউ কাজ করবেন না এবং তার সাথে কেউ কোনো কাজে অংশগ্রহণ করবেন না।
আনন্দবাজার/টি এস পি








