প্রতি বছর ঈদের আগে আগে দেশের বাজারে বেড়ে যায় মসলার চাহিদা। তবে এবছর ঈদের প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই পাইকারি বাজারে বেড়ে গেছে মসলার দাম। মসলাভেদে দাম বেড়েছে ৪০-১৪০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি, করোনার কারণে আমদানি ও রফতানি সরবরাহ ব্যহত হওয়ায় রোজার মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে মসলার দাম বেড়ে গেছে।
জানা যায়, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি জিরা এখন ৪০০-৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তায় ছিল ২৮০ টাকা। এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে আমদানি করা জিরার দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা। এখন প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল দুই হাজার ৯২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই মসলা পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৩০ টাকা।
বেড়েছে কালিজিরার দামও। এখন প্রতি কেজি কালিজিরা বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৭১০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৭০ টাকা। দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা।
বাড়তির দিকে গোলমরিচের দামও। বর্তমানে কেজি প্রতি গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা শুকনা মরিচ ও হলুদের দামও বাড়তির দিকে। বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানি করা শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে৩৪০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল কেজিতে ৩১০ টাকা।
এদিকে বেড়েছে আমদানি করা হলুদের দামও। রোজা শুরুর আগে পাইকারি বাজারে আমদানি করা হলুদের কেজি ছিল ৯০ টাকা। গতকাল তা কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় উঠেছে। রোজার আগে প্রতি কেজি কিশমিশ ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে পণ্যটির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে টানা সরকারি ছুটি শুরুর পর পরই মসলাসহ ভোগ্যপণ্যের দামে এক দফা চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছিল। এরপর রোজা শুরুর সময় আরেক দফা দাম বাড়ে। তবে এরপর থেকে বাজার পরিস্থিতি কমতির দিকে ছিল। এখন রোজার মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে নতুন করে মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। চাহিদা খুব একটা না বাড়লেও সরবরাহ সংকটকে কারণ দেখিয়ে ঈদের আগে পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ীর হাত থেকে অন্য ব্যবসায়ীর হাতবদল হয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে।
আনন্দবাজার/ টি এস পি








