কুড়িগ্রামের উলিপুরে আশঙ্ককাজনক হারে বেড়েছে শিশু শ্রম। উপজেলার ছোট-বড় হাট বাজার গুলোর চায়ের দোকানে ঢুকতেই চোখে পড়ে ঝুকিপূর্ণ শিশু শ্রমের দৃশ্য। বাংলাদেশ সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এসব শিশু। পিতা-মাতার অজ্ঞতার পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকাই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিজ্ঞদের অভিমত। করোনা সংকট কাটিয়ে বিদ্যালয়গুলো খুললেও বিদ্যালয়ে ফেরেনি শ্রম বিক্রি করা এসব শিশুরা।
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় শতাধিক ছোট-বড় হাট-বাজার রয়েছে। বাজার ব্যতিরেকে বিভিন্ন মহল্লার মোড়ে চায়ের দোকানও গড়ে উঠেছে। সকাল-সন্ধ্যা ও কাজের ফাঁকে কিংবা অলস সময়ে গ্রামের লোকজন সাধারণত আড্ডা জমায় চায়ের দোকানগুলোতে।
উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্ত্বরেই কাবলীর চায়ের দোকান। সেখানে কাজ করে মমিন নামের ১২ বছরের শিশু। মমিন জানায়, বাবার অভাবী সংসারে বাড়তি যোগান দিতে তার চায়ের দোকানে কাজ করা। এতে করে তার নিজের পকেট খরচও চলে।
উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগদাহ চৌরাস্তার মোড়ে মমিনুলের চায়ের দোকানে কাজ করে ১২ বছর বয়সী সাইয়েদ ও ৯ বছরের শিশু মিজানুর। মিজানুর জানায়, বাবার সংসারে আমরা ৩ ভাই ও ১ বোন, সে সবার ছোট। মিজানুর নাগদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে সে চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে। পড়াশুনা করতে তার আর মন চায়না।
উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া অনন্তপুর একটি বড় হাট-বাজার। এখানেও বেশ কিছু চায়ের দোকানে শিশুদের কাজ করার দৃশ্য চোখে পড়ে। এ বাজারের একটি চায়ের দোকানে কাজ করে ৯ বছর বয়সী শিশু মমিনুল। বাবা আব্দুল মজিদ এর ৩ ছেলে ১ মেয়ে। মমিনুল সবার ছোট। বাবা ব্রহ্মপুত্র নদে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে জিবীকা নির্বাহ করে। মাছ তো আর সব সময় পাওয়া যায় না, তাই বাবার সংসারে বাড়তি যোগান দিতে মমিনুল বছরাধিক কাল থেকেই চায়ের দোকানে কাজ করছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯/১০টা অবধি চায়ের দোকানে কাজ করে সে। বিনিময়ে নিজের ৩ বেলা খাওয়াসহ প্রতিদিন ১০০ টাকা করে আয় করে মায়ের হাতে তুলে দেয় মমিনুল। পড়াশুনার কথা বললে জানায়, স্কুল তো সারা বছর বন্ধ থাকে, ঠিকমত ক্লাস হয়না, এখন আর পড়াশুনাও করতে মন চায়না তার।
অভিজ্ঞদের মতে, করোনাকালিন সময়ে টানা বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন সারাদেশেই বিদ্যালয় গুলো খুলেছে। শিক্ষকরা যদি আন্তরিক হয় তাহলে শিশু শ্রম দেয়া শিশুদের পিতা-মাতাদের সাথে কাউন্সিলিং করে তাদেরকে বিদ্যালয়মুখী করা সম্ভব।








