দেউলিয়া বা খেলাপি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে কেনিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে বেইজিং প্রশাসন। শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে চীনের কাছ থেকে উন্নত রাস্তা, পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং নিজেদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেলওয়েতে অর্থায়নের জন্য বেইজিংয়ের কাছ থেকে বিশাল অংশের এই ঋণ নিয়েছে দেশটি
কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক অব কেনিয়ার’ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত কেনিয়ার বাহ্যিক ঋণ ৩ হাজার ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল পোস্ট জানিয়েছে।
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের পরে আফ্রিকার এই দেশটির বৃহত্তম বিদেশি ঋণদাতা হচ্ছে চীন। একইসঙ্গে কেনিয়ার ২০২১-২২ অর্থবছরের বহিরাগত ঋণ পরিষেবা খরচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের যোগানও দিয়েছে চীন।
২০২১-২২ অর্থবছরে চীনা ঋণ পরিশোধের জন্য মোট ১১ হাজার ৭৭০ কোটি শিলিং (৯৭২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয় করেছে কেনিয়া। যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৭০ কোটি শিলিং (২০৪.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সুদ পরিশোধে এবং ৯ হাজার ৩০০ কোটি শিলিং (৭৬৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খালাস বাবদ ব্যয় করেছে দেশটি।
কেনিয়ার ট্রেজারি প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ আগামী অর্থবছরে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। যা আগের বছরের ৩৫১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ২০২২ সালে ১২৬.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল পোস্ট।
উন্নয়নশীল আফ্রো-এশিয়ান দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ঠেলে দেওয়ার নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।
যদিও বেইজিং সেটি বরাবরই অস্বীকার করে থাকে এবং তারপরও চীনা ঋণের ফাঁদে পড়ে খেলাপি দেশের তালিকায় নতুন প্রবেশকারী দেশের নাম হতে যাচ্ছে কেনিয়া।
আনন্দবাজার/কআ








