আমের রাজধানী----
- দেড় হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আমের রাজধানী হিসেবে ইতোমধ্যে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। ছোট বড় বহু রকমের আমবাগানে ভরে আছে উপজেলার মাঠগুলো। চলতি মৌসুমে বাগানে আমের আকার বড় হতে শুরু করেছে। বাগানে ঢুকলেই বাতাসে দোল খাওয়া আম দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
আমচাষিরা বলছেন, এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতে বছরে আম বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত আয় তোলা যাবে। সেই আশায় দিন গুণছেন চাষিরা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতিবছর এক সাপাহার উপজেলাতেই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি আমবাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই ঝুলে আছে নানান জাতের আম। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুটি, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হিমসাগর, আম্রপালী, হাড়িভাঙ্গাসহ আরো বহু প্রজাতি। যদিও এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে সুমিষ্ট জাতের আম্রপালী আম। ভালো দাম পাওয়ার কারণে এবারও প্রায় ৭৫ শতাংশই আম্রপালী জাতের।
বাগানের গাছে গাছে দোল খাচ্ছে চাষিদের স্বপ্নের আম। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই চাষীদের। সেই কাকডাকা ভোর থেকে শ্রমিক লাগিয়ে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পরিচর্যার দিক থেকে কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছেনা কৃষকদের মাঝে। সারাদিন আমবাগানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আম বাগানগুলোতে যেন সাজ সাজ রব।
ইতোমধ্যে উপজেলায় ২৫ মে থেকে গুটি আম ভাঙার মধ্যে দিয়ে আম সংগ্রহ শুরু হবে বলে জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জানা গেছে। সেই সঙ্গে গোপালভোগ ৩০ মে, হিমসাগর ৫ জুন, নাগফজলী ৮ জুন, ল্যাংড়া ও হাড়িভাঙ্গা ১২ জুন, ফজলি ২২ জুন, আম্রপালী ২৫ জুন, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌড়মতি ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হারভেস্টিং করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
তাজপুর গ্রামের আমচাষী নিতাই চন্দ্র বলেন, ‘ভগবানের আশির্বাদে এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পরিচর্যার কাজ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের মতো এবারেও লাভবান হতে পারবো।
ইসলামপুর গ্রামের আমচাষী মাহফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছরে গাছে আমের মুকুল বেশ ভালো দেখা গেছে। সে অনুপাতে ফলনও বেশ ভালো। প্রাথমিক অবস্থায় বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক আম ঝরে গেছে। তবে অসময়ে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় তাহলে অনেকটা সমস্যায় পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাপলা খাতুন বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমচাষ হচ্ছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ১৫ টন আম উৎপাদন হয়েছিলো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এই বছরে উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে। এছাড়া আমচাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে।
প্রতি বছরে এই উপজেলায় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে আমবাগান। এই বছরেও আমবাগান বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে গাছগুলো নতুন হওয়ায় সেগুলো থেকে ফল আশা করছেন না আমচাষিরা। যার ফলে গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছরেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে আম রপ্তানি করা যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আমচাষীরা।








