আহমাদ আল-মোস্তফার। লেবাননে বসবাসরত একজন সিরিয়ান শরণার্থী। প্রতিদিনই যেন কঠিন থেকে কঠিনতর সময়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। গত বছর লেবাননে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বেশ কয়েকবার চাকরি হারিয়ে কোনরকম কষ্টে দিন পার করছিল তিনি। বর্তমানে করোনার কারণে লকডাউনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। নিজের শিশুকন্যার জন্য দুধ কেনার সামর্থ্যও নেই এখন মোস্তফারের।
মোস্তফার বলেন, আমাদের আর কেউ চাকরি দেবে না। আগামীদিনের ভয়ে আছি আমরা। জানি না আমাদের সঙ্গে আর কী কী হবে।
করোনা কারণে চলমান পরিস্থিতিতে লেবানন, জর্দান ও তুরস্কে বসবাসকারী ৫৬ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী এখন এমনই তীব্র খাদ্য সংকট এর মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো দিনের পর দিন লকডাউনে থাকায় দিনমজুরি করে কোনো রকমে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকা এসব মানুষ, সেটুকুও আর পারছেন না।
২০১৪ সালে উত্তর লেবাননে পালিয়ে আসা আহমাদ আরও বলেন, ‘প্রতিবার আমি কাজ খুঁজতে গেলেই বলা হয় সিরিয়ানদের চাকরি দেন না তারা। আমি বাড়িতে বসে বসে এখন দিন কাটাচ্ছি এবং সবকিছুর দাম চড়া। দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এক বছর বয়সী বাচ্চার দুধের জন্য দানশীল এক প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাকে।'
লেবাননে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি মিরেইল গিরার্ড বলেন, অধিকাংশ শরণার্থীই বলছেন, ভাইরাস নয়, তারা উদ্বিগ্ন ক্ষুধা নিয়ে। সংস্থাটির গত মাসে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সিরিয়ান শরণার্থীদের ৭০ শতাংশই ক্ষুধার্ত।
জর্দানের জাতারি শিবিরে বাস করেন ৮০ হাজার সিরিয়ান শরণার্থী। দু’মাসের জন্য লকডাউনে থাকায় শিবির থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে রোজ কাজের জন্য যারা বাইরে যেতেন, তাদের কাজে যাওয়া এখন বন্ধ।
আবদুল্লাহ আবা জাইদ ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার কাজ করতেন। দু’মাসব্যাপী লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন বলে এখন কোনো আয় নেই জাইদের। তিনি বলেন, গত ১৫ দিন ধরে বাড়িতে রুটি কেনার জন্যও আমার কাছে একটি পয়সা নেই। এদিক-সেদিক থেকে ধার করে চলছি আমি।
এ সপ্তাহে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও চাকরি হারানো সিরিয়ানের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ইতোমধ্যে অপর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন আরও অনেক সিরিয়ান।
তুরস্কে বসবাসকারী ৩৫ লাখ সিরিয়ান শরণার্থীর অধিকাংশই দিনমজুর হিসেবে নির্মাণ খাত বা তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করতেন। করোনার কারণে এসব খাতই এখ বন্ধ। তবে চাকরি হারানো তুর্কি কর্মীরা সরকার থেকে সহায়তা পেলেও সিরিয়ানরা তা পাচ্ছে না।
লেবাননের বেকা উপত্যকার শিবিরে বসবাসরত শরণার্থী ইউনুস হামদু বলেন, আমরা বন্দি। খাবারের অভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নেই। লেবানিজরা ক্ষুধার্ত। সিরিয়ানরা ক্ষুধার্ত। সবাই ক্ষুধার্ত। খবর রয়টার্স
আনন্দবাজার /শহক






