‘রক মেলন’ নামটি অনেকের কাছে অপরিচিত। আবার অনেকেই এ ফলটিকে ‘সাম্মাম’ নামে চিনে। ‘রক মেলন বা সাম্মাম’ একটি বিদেশী ফল। বিদেশী এ ফল বাংলাদেশের মাটিতে চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ঠাকুরগাঁওয়ের তিন উদ্যোক্তা।
পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের উদ্যোক্তা মুনজুর আলম, সরিফুল ইসলাম ও নুর মোহাম্মদ। ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের তেঁতুলতলা এলাকায় ভাতারমারি ফার্মের পশ্চিম পাশে ৩ একর জমি লিজ নিয়ে ‘রক মেলন’ চাষ শুরু করেন তারা।
‘রক মেলন’ চাষ সচরাচর ঠাকুরগাঁও জেলায় করতে দেখা যায় না। চাষে খরচ বেশি হলেও মনের জোরে প্রথম বারের মতো ‘রক মেলন’ চাষ শুরু করেছেন তারা।
দূর থেকে দেখলে মনে হয় সিলভার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সারিবদ্ধ ঢিপি। আসলে তা নয় কাছে গিয়ে দেখা যায়, মাটির উপরে মালচিং বিছিয়ে ‘রক মেলন’ চারা রোপন করা হয়েছে সেখানে। আর ছিদ্রকরা মালচিং এর ফাকা দিয়ে গজিয়ে উঠেছে রক মেলনের ছোট ছোট চারা। চারার বয়স সবে মাত্র হয়েছে ১০ দিন।
চারা রোপনের মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ‘রক মেলন বা সাম্মাম’ ফল কর্তন (হারভেস্ট) করে বাজার জাতকরণ করা যাবে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
সেখানে উদ্যোক্তা মুনজুর আলমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে ভিডিও দেখে ‘রক মেলন’ চাষ শুরু করেছেন তারা। এটির চাহিদা ও বাজার মূল্য ভালো থাকায় মূলত লাভের আশায় ও তাদের দেখে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য এ ‘রক মেলন’ এর চাষ শুরু করেন তারা।
মুনজুর আলম বলেন, ‘৫০ শতক (এক বিঘা) জমিতে ‘রক মেলন’ চাষ করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে ৬ বিঘা মাটিতে ৬ লক্ষাধিক টাকা খরচ হবে তাদের এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে ও ভালো ফলন হলে এখান থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রয় করার আশা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, ‘রক মেলন ফলটি সর্বনিম্ন২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। ফলটি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা বিক্রয় হয় বাজারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এবার দ্বিতীয় বারের মতো ‘রক মেলন’ চাষ করা হচ্ছে। এর আগে গতবার সদর উপজেলার রাহুল রায় নামে এক কৃষক সর্ব প্রথম চাষ শুরু করেন। এবার জেলায় মোট ৪ একর জমিতে ‘রক মেলন’ চাষ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ‘রক মেলন’ চাষে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘কৃষিতে সমৃদ্ধ ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলায় দেশি ফল ও শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি বেড়েছে বিদেশি ফলের চাষ। তাই ‘রক মেলন’, ক্যাপসিকাম ও তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে এ জেলায়। কেউ যদি ‘রক মেলন’ চাষ করেন ও সম্প্রসারণ করতে চায় তাহলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের এ বিষয়ে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
কৃষকরা এটির চাষ সম্প্রসারণ করলে তারা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। তেমন অন্যদিকে পুষ্টির চাহিদা পুরনে ও বাজারে নতুন ফলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করে আবু হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে ‘রক মেলন’ একটি জনপ্রিয় ফল। আমাদের দেশে এটি নতুন আসলেও সুপার শপগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সদর উপজেলার কৃষক রাহুল রায় গত বছর ‘রক মেলন’ চাষ করে ভালো মূল্য ও সারা পেয়েছেন। এ বছরও সদর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় ‘রক মেলন’ চাষ করা হয়েছে। যা বাড়ন্ত অবস্থায় আছে। ঠাকুরগাঁওয়ের আবহাওয়া ‘রক মেলন’ চাষে উপযোগি।








