লালমনিরহাটের পাচঁ উপজেলায় একই জমিতে ভুট্টা ও আলু চাষ। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে অর্থনীতি। ভুট্টা এখন লালমনিরহাটের জনপ্রিয় ফসল। তামাক চাষের পরিবর্তে কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে। কৃষকদের চিন্তা-চেতনায় এবার একই জমিতে ভুট্টা ও আলু চাষ করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। এতে এক জমিতে কৃষকরা পাচ্ছেন দুই ফসল। এতে সফলতার মুখ দেখছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
জানা যায়, লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় একই জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি আলু চাষাবাদ করছেন। ভুট্টা গাছের মধ্যবর্তী স্থানে ফাঁকা থাকায় আলু আবাদ করছেন। এতে অন্য ফসলের পাশাপাশি আলু আবাদে ঝুঁকছেন কৃষরা। এতে যেমন লাভবান হচ্ছেন কৃষক, অন্যদিকে খরচের পরিমান স্বল্প। ফলে কৃষকরা একই জমিতে মিশ্র আবাদের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিবিঘা ২০ থেকে ২৫ মণ আলুর আবাদ হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি আলুর দাম ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। গতবছরের তুলনায় চলতি বছর আলুর দাম কম। আলুর দাম কম হলেও বাজারে বিক্রয় করে বাড়তি টাকা আয় করছেন কৃষকরা।
হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়ার ইউপির কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, নিজের কোনো জমি নাই। তাই দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে একই জমিতে ভুট্টা ও আলু চাষ করছি। জমিতে ভুট্টা ও আলু ভাল ফলন হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে আলু পেলাম ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত। প্রতি মণ আলু বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত। ভুট্টা ক্ষেতে আলু আবাদ করে অনেক খুশি।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওমর ফারুক বলেন, এ পদ্ধতিতে কৃষকের বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করছেন। জমিতে অতিরিক্ত কোনো সারের প্রয়োজন নেই। তবে কম জমিকে এ চাষ আবাদ হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রায় ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। ভুট্টা ১৩ লাখ ১২ হাজার ৮৩০ লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুট্টা আবাদের পাশাপাশি আলুচাষের পদ্ধতিতে কৃষকের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে।
লালমনিরহাট কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, লালমনিরহাটের কৃষকরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে পাঁচ উপজেলায় কিছু কৃষক একই জমিতে দুই থেকে তিন ধরনের ফসল ফলাতে দেখা গেছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের সরকারীভাবে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।








