মাধ্যমিককে জাতীয়করণ করতে হবে
- করোনায় ঝরে পড়েছে ২১ শতাংশ
মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করতে হবে। কেননা বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেছেন সেই পথ ধরে মাধ্যমিককেও জাতীয়করণ করা দরকার। তাতে করে এমপিওভুক্তির সমস্যাও নিরসন হবে। তাছাড়া পাঠ্যপুস্তককে আরো আকর্ষণীয় করতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তিন দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সেকেন্ড ন্যাশনাল কনফারেন্স অব এসডিজি’স ইমপ্লিমেশন রিভিউ (এসআইআর)-২০২২’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা হতে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত প্যারাল সেশন-২ তে রিভিউইং এসডিজি’স এক্টিভিটিস আন্ডারটেকেন বাই মিনিস্ট্রিস/ডিভিশন শীর্ষক সেশনে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সোসিও ইকোনোমিক ইনফ্রাস্টাকচার ডিভিশনের সদস্য (সেক্রেটারি) মোছাম্মত নাসিমা বেগমের সঞ্চালনায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ডিভিশন ও টেকনিক্যাল এবং মাদরাসা শিক্ষা ডিভিশনের এসডিজি বাস্তবায়নের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশ নেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চার এস এম জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা বিশেষ অতিথি থাকলেও তারা উপস্থিত হননি। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যেতে হলে মান-সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ম্যাক্রো-মাইক্রো অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা করতে হবে। সবকিছু বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে হৈচৈ করা হলেও সামাজিকতার দোহায় দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বইপড়া দিবসের দাবি জানিয়ে বলেন, মোবাইল ও কম্পিউটারে শিক্ষার্থীরা লিপ্ত। তাদের মনোজগৎ বৃদ্ধি করতে বইপড়ায় উৎসাহিত করতে হবে। কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ডাটা নেই। এই শিক্ষার্থীরা কার অধীনে তারও হদিস নেই।
ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাখাত। এখানে জরিপ চালানো দরকার ক্ষতির বিষয়ে। এটির উন্নয়নে দ্রুত কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তাও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আর মান-সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কোন ধরনের ছাড় নয়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক আরো আধুনিকায় ও পৃষ্ঠাসৌদর্যকরণ করা প্রয়োজন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)কে গুরুত্ব দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমীন জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৬১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করে শিক্ষা বিস্তারে কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তার পথ ধরে বর্তমান সরকার ১০০ মিলিয়ন পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছে। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের অংশ কভিড-১৯ এর কারণে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ছিল ১৭ শতাংশ। এটি নিরসনে শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। মান-সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে প্রমিত বাংলায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেলাল হোসাইন তালুকদার জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় মান নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। যদিও এখানে অনেক অসন্তুষ রয়েছে। তারপরও আমরা তা কাটিয়ে উঠতে চাচ্ছি। এসডিজি ৪ হচ্ছে মান-সম্মত শিক্ষাসংক্রান্ত। এতে ১০টি টার্গেটে ১২টি ইন্ডিকেটর নির্ধারণ করা হয়ছে। ৩৩ হাজার ২৮৫টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিডটাইম মিলটি চালানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
মাদরাসা শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয়, ১৮০০ মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের টার্গেট নেয়া হয়। সেখানে ৬৫৩টিতে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২ লাখ ৯০ হাজার ৫২৬ জন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। ৩০৯১ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কোভিড-১৯ সময়ে ৬৭৯টি টিভি ক্লাস নেয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৪টি দেশের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু স্থান ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। বিশেষ করে নকশিকাঁথাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কাজ চলছে।








