দেশের অর্থনীতি যে দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তার অন্যতম একটি হচ্ছে রেমিট্যান্স। আর এই রেমিট্যান্স আসে অভিবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে। তাই দেশে-বিদেশে তাদের সঠিক মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি তাদের জন্য আইনি সহায়তা ও বিদেশে শ্রমিক প্রেরণে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার, ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উদ্যোগে গতকাল আয়োজিত ‘অভিবাসন ও অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করোনার প্রভাব: পুনরেকত্রীকরণ ও কাজে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন (দেশে ও বিদেশে)’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকার ওপর করোনার প্রভাব পর্যালোচনা; করোনার কারণে অভিবাসী শ্রমিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব; অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন ও কাজের নিরাপত্তা (দেশে ও বিদেশে); বিদেশ ফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের পুনরেকত্রীকরণে চলমান কার্যক্রমগুলো পর্যালোচনা; করোনার কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সহায়তা এবং করণীয় নির্ধারণে প্রণীত নীতিগুলোর ঘাটতি বিশ্লেষণ; অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে দরকারী পদক্ষেপ এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
তারা জানান, বিশ্বের ৮৪টি দেশে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতি আজকের অবস্থানে। তবে অভিবাসী শ্রমিকরা দেশে-বিদেশে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসছেন। করোনার সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুসারে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন। তাছাড়া একই সময়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক বিদেশ যেতে পারেননি। ফেরত আসা শ্রমিকরা দেশে এসে প্রয়োজনীয় লিগ্যাল সাপোর্ট পাচ্ছেন না।
তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে যত শ্রমিক বিদেশ যাচ্ছেন তার প্রায় অর্ধেকই অদক্ষ। এর ফলে শ্রমিকরা বিদেশ গিয়ে নির্ধারিত কাজ এবং প্রাপ্ত মজুরি পাচ্ছেন না। তাছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর খরচ বেশি হলেও সে তুলনায় শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন না।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মো. শহীদুল আলম (এনডিসি) বলেছেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হলেও প্রায় সাত লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গমন করেন। তবে দক্ষ শ্রমিক কম। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কর্মসংস্থানের ব্যাপারটি যুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খানও তার বক্তব্যে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণে সরকারকে এখনই মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আনন্দবাজার/এফআাইবি








