আগে পর্যটন, পোশাক, চাখাত সচল কতে হবে
দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এখন দাউ দাউ করে জ্বলছে। অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার পরিচালনাকারীদের অনেকেই এখন পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। প্রায় শতভাগ স্বাক্ষরতার দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে উঠেছিল এশিয়ার রোল মডেল। মেগা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে হংকং, সিঙ্গাপুর আর দুবাইকে টেক্কা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিলাসী সেই পরিকল্পনা এখন পুড়ছে ক্ষোভ আর জনরোষের আগুনে। তবে প্রশ্ন এখন একটাই- দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দুই কোটি ২০ লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যৎ কী? কীভাবে তারা সামনে এগুবে? কীভাবে তারা পরিস্থিতি সামাল দেবেন?
শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে মূল তিনটি খাতকে চাঙ্গা করতে হবে। যা ঘিরে দেশটির অর্থনীতি ঘুরপাক খায়। বিগত করোনাকালে সেই তিন খাত তৈরি পোশাক, পর্যটন ও চা খাত ধসে পড়েছে। যেহেতু শ্রীলঙ্কা তার অর্থনীতির বহুমুখীকরণ করতে পারেনি সেজন্য এসব খাত ধরেই সামনে এগুতে হবে। পর্যটনের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল হলেও করোনার সময় সবচেয়ে বেশি মার খেয়ে এই খাতে। করোনাকালে পর্যটন খাত থেকে তারা কোনো রাজস্ব আয় করতে পারেনি। অথচ এখান থেকে বছরে ৫শ থেকে ৬শ কোটি ডলার আয় করতো।
অবশ্য এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- ইউক্রেন যুদ্ধ। কারণ দেশটিতে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে রাশিয়া থেকে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার পর্যটকেরা কম আসছেন। সেজন্য বিকল্প দেখতে হবে। তবে আরেকটা সমস্যাও দেখা দিয়েছে। সেটা হলো চা খাতে। শ্রীলঙ্কার চায়ের বড় বাজারও আবার রাশিয়া। যুদ্ধের কারণে চায়ের বাজার নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ অবরোধ আর নানা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন বন্ধ রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় বড় গার্মেন্টসগুলোর অন্যতম কলোনা ম্যানুফ্যাকচারিং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেলের অনন্য উদাহরণ হলেও গত কয়েক মাস ধরেই বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটে উৎপাদনে যেতে না পারায় পশ্চিমা ভোক্তাদের পণ্য দিতে পারছে না। কারাখানা চালাতে পর্যাপ্ত তেল পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়েছে। তবে সবার আগে এই খাতকে সচল করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে।
পাশাপাশি দেশটিতে কৃষি উৎপাদন কমে গিয়ে সব বড় সংকট তৈরি হয়েছে। সেজন্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আগে তুলে নিতে হবে। তাছাড়া শ্রমিক মজুরি কমিয়ে কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। শ্রীলঙ্কার বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিগত ২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজাপক্ষের কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি। দেশটিকে সামনে এগুতে হলে সেই নীতি থেকে সরে আসতে হবে।
বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা এখন আন্তর্জাতিক মুদ্র তহবিলসহ (আইএমএফ) অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হাত পাতছে। তবে আইএমএফ শর্ত দিয়েছে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আলোচনায় ভারতকে রাখতে হবে। আবার জাতিসংঘের পরামর্শ মানতে হবে শ্রীলঙ্কাকে ভারত, চীনসহ অন্যান্য প্রতিবেশীর সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় করে ডলার নিতে হবে। বাংলাদেশের কাছ থেকেও মুদ্রা বিনিময়ের আওতায় ২০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এর বিপরীতে তারা সমপরিমাণ শ্রীলঙ্কার রুপি জমা রাখছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রীলঙ্কাকে বাঁচতে হলে আগে ভুল নীতি বদলাতে হবে। জনগণের আস্থায় আসতে হবে। সবার আগে শিল্পকারখানা সচল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণকে কাজে ফেরাতে হবে।
আনন্দবাজার/শহক








