বিমা নিয়ে কল্প কাহিনির শেষ নেই। তারপরও বিমা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বাড়ছে বাজারও। তবে উন্নত বিশ্বে বিমার যে গুরুত্ব বাংলাদেশে তার ধারের কাছেও নেই। এখানে বিমা নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া কেউ করতে আগ্রহী নন।
তবে সাধারণ বিমার বিষয়টি ভিন্ন। এটি কতগুলো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ বিমা করতে হয়। অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, এমনকি বাণিজ্যিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও সাধারণ বিমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও এসব নিয়েও নানা অনিয়ম ফাকিজুকি রয়েছে। যার কারণে বিমা শিল্প হিসেবে ব্যপ্তি লাভ করতে পারছে না। যদিও বিমা খাতের ব্যবসায়ীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। তারা তাদের সাময়িক ব্যবসা এবং এ থেকে আয় অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগকেই মূখ্য করে দেখছেন।
দৈনিক আনন্দবাজার প্রধান শিরোনাম করে খবর দিয়েছে জীবন বিমা ব্যবসায় ‘অনিয়মেও বেড়েছে আয়’। খবরটি বিমা ব্যবসায়ীদের জন্য কতটুকু স্বস্তিকর তা বোধগম্য নয়। তবে সার্বিক বিমা ব্যবসার জন্য খবরটি সুখকর নয়।
বাংলাদেশে জীবন বিমা কোম্পানি ৩৩টি। এরমধ্যে ২৭টিরই আয় বেড়েছে। এক বছরেই প্রায় ৮১৪ কোটি টাকা আয় বেড়েছে। বিমা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা একেবারেই ভালো নয়। এর ভেতরে করোনাকালে এতো টাকা আয়ের সুযোগ কম কথা নয়। তবে এই টাকা আয়ই শেষ কথা নয়। বিমা ব্যবসাকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে সাধারণ মানুষকে আস্থায় আনতে হবে। বিমা বিশেষ করে জীবন বিমা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই৷ বিস্তর অভিযোগ ফাইলবন্দী হয়ে আছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে। খবরে বলা হয়েছে, লোকবল সংকটের কারণে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারছে না আইডিয়ারএ কর্তৃপক্ষ। সব বিমা কোম্পানি না হলেও অধিকাংশ বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করে থাকে। নানা অনিয়ম আর প্রতারণার কারণে অধিকাংশ গ্রাহক নিজেরা আর বিমা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেইসঙ্গে বিমা করতে নতুন কাউকে নিরুৎসাহিত করে থাকে। বিমা গ্রাহকদের অভিযোগ বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে বিমা কোম্পানিগুলো নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে। চেক নিতে গিয়ে হয়রানির শেষ থাকে না। হাজার হাজার গ্রাহক এমন হয়রানির শিকার। চেকের জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও অনেকে টাকা পান না। যার ফলে বাংলাদেশে বিমা ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নাজুক। যদিও বিশ্বের বিমা ব্যবসার ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। সব মানুষকেই বিমার আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে বিমা বাধ্যতামূলক। বিমার উপরই নির্ভর করে অন্যান্য সেবা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে হলে বিমা না থাকলে তা পাবে না। গাড়ি কেনা, বাড়ি কেনা, সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও জীবন বিমা অনেক দেশেই বাধ্যতামূলক। যদিও বাংলাদেশে সে সময় আসতে এখনো বাকি। তারপরও জীবন বিমা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠা জরুরি। সবাইকেই বিমার আওতায় আনা জরুরি। সে লক্ষ্যে এখন থেকেই বিমা কোম্পানিগুলোকে সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করা প্রয়োজন। শুধু আয় বাড়াতেই পরিতৃপ্তি টেনে লাভ কি। যদি বিমা ব্যবসায় সঠিক ভিত তৈরি না হয়, গ্রাহক সন্তুষ্টি না বাড়ে, গ্রাহকেরা নিজেরা আকৃষ্ট না হয়।
সেই লক্ষ্য নিয়েই বিমা ব্যবসার প্রসার ঘটাতে হবে। শুধু নামকাওয়াস্তে কোম্পানি খুলে লাভ হবে না। একসময় এই ব্যবসার আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে৷ সে কথা স্মরণ রাখতে হবে।








