করোনা বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে যানচলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পোলট্রি খামারীরা। কিছুটা লোকসান ঠেকাতে ৪৫ টাকা কেজি মুরগি বিক্রি করছেন নেত্রকোনার খামারীরা। যদিও এক কেজি আকারের একটি পোলট্রি মুরগি উৎপাদনে খরচ হয় ৮০-৯০ টাকা। তার পরেও বাধ্য হয়েও এই কাজ করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে ১০-১২ বছর আগে ব্যক্তি পর্যায়ে পোলট্রি ব্যবসা শুরু হয়েছে। এই ব্যবসা ভালোই চললেও সম্প্রতি দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন ঘোষণা দেয়ার পর থেকে যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধের মতো। এতে খামারিরা বাইরে থেকে মুরগির খাবার আনতে পারছেন না। অনেক চেষ্টা করে খাবার আনলেও দাম দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। খাবারের অভাবে উৎপাদনও কম এবং অনেক খামারের মুরগিও মারা যাচ্ছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক কেজি আকারের একটি মুরগি উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। কিন্তু বাজার ভালো না থাকায় বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। তাও বিক্রি করা যায় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক খামারি পথে বসবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
বারহাট্টা সদর, গুমুরিয়া, কৈলাটীসহ কয়েকটি গ্রামের খামার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খামারেই খাদ্য সংকট। লেয়ার, কক ও পোলট্রির খামারে খাবারের অভাবে বাচ্চা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোনোটিতে দেখা গেছে বাচ্চা ও মুরগি মরে যাচ্ছে।
খামারীরা বলেন, সরকার দেশের সব সেক্টরে প্রণোদনা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশের পোলট্রি খামারিদের জন্য কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়নি। যদিও অন্য সেক্টরের মতো আমরাও অনেক লোকসানে পড়েছি।
বারহাট্টা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন বলেন, পোলট্রি খামারিদের সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা পাইনি। সরকারি নির্দেশনা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ব্যাপারে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
আনন্দবাজার/শহক








