রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য কালকের দিনটি হতে পারে তাদের জীবনের সবচেয়ে স্বরণীয়। তাদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনা, অপ্রাপ্তি আর অত্যাচারের বিচারের আশা আগামীকাল হয়তো বাস্তবে রুপ নিতে পারে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে গণহত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়নের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন ১৭ জন বিচারপতি।
গাম্বিয়ার অবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দিবে আইসিজে।
এর অগে গত সোমবার মায়ানমার সরকারের গঠিত একটি তদন্ত কমিটি বলেছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে ঠিক, তবে সেগুলো গণহত্যার উদ্দেশ্যে ছিল না।
রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ওআইসি’র পক্ষে গাম্বিয়া ছয়টি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এগুলো হলো রোহিঙ্গাদের গণহত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীসহ সব সশস্ত্র বাহিনী ও সংগঠনকে গণহত্যা সংঘটন ও গণহত্যার ষড়যন্ত্র থেকে নিবৃত্ত রাখা, গণহত্যার কোনো আলামত নষ্ট না করা, পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো কিছু করা থেকে বিরত থাকতে বলা, এসব নির্দেশনা পালনের বিষয়ে মিয়ানমার এবং গাম্বিয়া চার মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন পেশ এবং জাতিসংঘের তদন্তকারীসহ অন্যদের তদন্তের প্রয়োজনে আরাকানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা সব রাষ্ট্রের রয়েছে। তবে কোনো দেশ সেই আদেশ না মানলে ব্যাপারটি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারে।
আনন্দবাজার/জায়েদ







