মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুলাউড়ার স্থানীয় সবজির বাজারে এখন ব্রোকলির চাহিদা বেড়েছে। গত বছর কুলাউড়ায় অনেক চাষিরা ব্রোকলি চাষ করেছিলেন। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় এবারও কুলাউড়ার বিভিন্ন জায়গায় ব্রোকলির চাষ হয়েছে।
উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কাউকাপন গ্রামের রুনা বেগম (৩৫) ব্রোকলির চাষ করে সফল হয়েছেন। গত বছর ব্রোকলি চাষ করে এর চাহিদা দেখে এবার তিনি ব্রোকলি চাষে আগ্রহ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিপিস হিসেবে ব্রোকলি বিক্রি করছেন। একটি বেসরকারি প্রকল্পের সহযোগিতায় তিনি ব্রোকলি চাষ করেছেন। এর আগে এ এলাকায় ব্রোকলি অপরিচিত সবজি ছিল। বর্তমানে লাভজনক হওয়ায় চাষিদের ব্রোকলি উৎপাদনে চাহিদা বাড়ছে। নতুন সবজি হিসেবে ক্রেতাদের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। গেল বছর কুলাউড়ায় ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের উত্তর হিংগাজিয়া এলাকার ইয়াসমীন বেগম (১৯) ব্রোকলি সবজি চাষ করে সফল হয়েছিলেন। তিনি প্রায় ১০ শতক জমিতে নতুন জাতের সবজি ব্রোকলি চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন। ফলে অনেক কৃষকের ব্রোকলি চাষে আগ্রহ বাড়ে। পরে এ সবজি পরিচিত হলে বিভিন্ন জায়গায় এর চাষ বৃদ্ধি পায়। কুলাউড়ার স্থানীয় চাষিদের আবাদ করা ব্রোকলি উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা ব্যাপক। ফুলকপির মতো দেখতে গাঢ় সবুজ রংয়ের শীতকালীন এ সবজির চাহিদা দেখে আগামীতে উৎপাদনের কথা জানালেন কৃষক জুয়েল আহমদ। তিনি জানান, এলাকায় ব্রোকলির চাহিদা বেড়েছে। আমরা সবুজ ফুলকপি আগে দেখি নি। সবাই এটা কিনতে চায়। আগামীতে আমার নিজের জমিতে এটা চাষ করব।
ব্রোকলি প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বর্তমানে যে হারে উৎপাদন হয়েছে এর চেয়ে বেশি উৎপাদন করলে আরও বেশি লাভ করা যেত। এমনটাই জানালেন হাজিপুরের রুনা বেগম। আগামীতে চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও বেশি উৎপাদন করার কথা যোগ করেন তিনি। এছাড়াও অনান্য কৃষকেরা নিজের চাষ দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
কুলাউড়ার অনেক চাষিরা ক্ষুদ্র আকারে ব্রোকলি চাষ শুরু করেছেন। উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের শাফিয়ারুন (৩৪) বেগম ব্রোকলি চাষ করে সফল হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ২৫-৩০ টাকা দরে পিস হিসেবে ব্রোকলি বিক্রি করেন। এভাবে অনেকেই ব্রোকলি চাষে আগ্রহ পাচ্ছেন। গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং চাহিদা বিবেচনায় এ বছরও চাষ বেড়েছে অনেক জায়গায়। গেল বছর এবং এ বছরে উপজেলার রাউৎগাঁও, টিলাগাঁও, হাজিপুর ও অন্যান্য ইউনিয়নে ব্রোকলির চাষ করা হয়। ব্রোকলি চাষে সবাই সফল হওয়ায় আগামীতে এর চাষ বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকেই।
ব্রোকলির পুষ্টিগুণ নিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রোকলিতে রয়েছে খনিজ যা শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্যালসিয়াম বেশি থাকায় হাড় শক্তিশালী ও মজবুত হয়। ব্রোকলিতে ভিটামিন কে, আয়রন আর পটাশিয়ামের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ ফ্ল্যাভিনয়েড, লিউটেন, ক্যারোটিনয়েড, বিটা-ক্যারোটিন ও উচ্চমানের নানা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।এছাড়াও ব্রোকলিতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানান, কুলাউড়ায় দিন দিন ব্রোকলির চাষ বাড়ছে। ব্রোকলি ক্যান্সার প্রতিরোধী সবজি। এতে বেশ কয়েকটি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এ সবজি শরীরের জন্য খুবই উপকারি। ব্রোকলি চাষ বাড়াতে কৃষি অফিস কৃষকদের সহযোগিতা করে আসছে।








