সয়াবিন নিয়ে বৈঠকে এফবিসিসিআই----
- তেলের সঙ্গে গেটিসে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
তেল নিয়ে তুলকালামের দায় সরকারের জানিয়ে আমদানিকারক ও সরবরাহকারীরা বলেছেন, রমজানের আগে থেকেই ধাপে ধাপে দাম বাড়ালে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, কন্টেইনার ভাড়া বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। তাদের দাবি রমজানের আগে থেকেই দাম বাড়ানোর কথা ছিলো। বাণিজ্যমন্ত্রণালয় বলেছে ঈদের পর দাম বাড়াবে। তখন আমরা বলেছিলাম এতে মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। কিন্তু তখন বলা হয়েছিলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল বুধবার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) ভোজ্য তেলের আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ীর কারণে আমিও এখন অসাধু ব্যবসায়ী হয়ে গেছি। যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করে রেখেছে তারা কারা? এরা আসলে ব্যবসায়ী নাকি অতিলাভের আশায় তেল মজুত করে রেখেছে মাত্র। দ্রুতই তাদের চিহ্নিত করা দরকার। দেশের এই সঙ্কটের সময়ে তেল মজুত করে রাখা অন্যায় জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, যার যতটুকু তেল আছে তা বিক্রি করে দিতে হবে। মজুত করার কোনো দরকার নেই।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনার সময় সরকার এক কোটি পরিবারের মাঝে তেল বিতরণ করেছে। সবগুলো তেলই আমদামিকারকদের কাছ থেকে নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একসঙ্গে এতো তেল সরবরাহ করলে তো কোম্পানির তেল সরবরাহে বেঘাত ঘটবেই। বিদেশ থেকে সরকারিভাবে তেল আমদানি করা উচিৎ। এতে করে আমদানিকারকদের ওপর থেকে চাপ কমবে এবং কম দামে তেল বিক্রি করতে পারবে।
নিউমার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, মিলারদের কাছে গেলে তারা সয়াবিন তেলের সঙ্গে আমাদের গেটিস (তেলের সাথে বাড়তি আরেকটি ভোগ্যপণ্য) ধরিয়ে দেয়। বলা হয় তেলের সাথে অন্যকিছু নিতে হবে। আমরা যারা খুচরা বিক্রেতা তারা তেলের সাথে গেটিস বিক্রি করবো কীভাবে? কোন কোম্পানি তেলের সাথে গেটিস নিতে বাধ্য করেছে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তীর কোম্পানি আমাদের তেলের সাথে গেটিস নিতে বাধ্য করেছে। গেটিস নিতে বাধ্য করা একটা অরাজকতা। এটি নৈতিকতা বিরোধী কাজ। মিলারদের চাপিয়ে দেয়া এমন অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে। আমরা তেলের সাথে ক্রেতাদেরকে গেটিস নিতে বাধ্য করতে পারি না।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এই দাম গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়। নতুন দাম অনুযায়ী ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯৮৫ টাকায়। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল ১ লিটার ১৮০ টাকা ও পাম তেল ১ লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৭২ টাকায়।
তবে দাম বাড়ানোর পরও সংকট কাটেনি। বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি দোকানে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া গেলেও ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে গুদামে গুদামে অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে উদ্ধার করা হচ্ছে হাজার হাজার লিটার তেল। দেশের বিভিন্ন গুদামে অভিযানের পর ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, দেশে যথেষ্ট সয়াবিন তেল থাকা সত্ত্বেও ঈদের আগে-পরে তা দোকানে আসেনি। এতে ১০ দিনে ৪০ হাজার টনের মতো সয়াবিন তেল মজুদ হয়েছে।








