ডিজিটাল যুগে সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিয়েছে মোবাইল সাংবাদিকতা বা মোজো। একটি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ আর ব্যক্তিগত দক্ষতা—এই তিনের সমন্বয়ে একজন রিপোর্টার একাই হয়ে উঠছেন ক্যামেরাপারসন, এডিটর, ভয়েস আর্টিস্ট এবং রিপোর্টার। কিন্তু প্রযুক্তির এই বিপ্লবের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতা—মোজো রিপোর্টারদের প্রতি অবহেলা, বেতন বৈষম্য এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি।
বাংলাদেশে মোজো সাংবাদিকরা আজ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাদের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা পান না। নেই নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, নেই ঝুঁকি ভাতা, এমনকি অনেক সময় নিজের মোবাইল, ইন্টারনেট ও যাতায়াত খরচও নিজেকেই বহন করতে হয়। অথচ মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা সমান ঝুঁকি নেন—কখনো রাজনৈতিক সহিংসতা, কখনো দুর্ঘটনা, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হন।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী মোজো সাংবাদিকতার চিত্র ভিন্ন। উন্নত দেশগুলোতে মোজোকে একটি আধুনিক ও কার্যকর সাংবাদিকতার ধারা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বড় বড় সংবাদমাধ্যম মোজো রিপোর্টারদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিশ্চিত করে। অনেক প্রতিষ্ঠান মোবাইল জার্নালিজমকে ভবিষ্যতের মিডিয়া কৌশল হিসেবে দেখছে এবং সে অনুযায়ী বিনিয়োগও বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশে এই খাত এখনো অনেকাংশে অনানুষ্ঠানিক। এখানে মোজো সাংবাদিকরা প্রায়শই ‘কম খরচে বেশি কাজ’ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হন। একটি স্মার্টফোন দিয়ে পুরো প্রোডাকশন করানো হলেও সেই অনুযায়ী সম্মানী বা মর্যাদা দেওয়া হয় না। ফলে একদিকে যেমন তাদের পেশাগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মানসম্মত সাংবাদিকতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এই খাত নিয়ে কোনো নীতিমালা বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। ফলে মোজো রিপোর্টাররা শ্রমিক হিসেবে তাদের অধিকারও দাবি করতে পারেন না। তাদের কাজের সময় নির্দিষ্ট নয়, ছুটি বা স্বাস্থ্যসুবিধাও সীমিত।
মোজো সাংবাদিকরা কেবল বিকল্প নন, তারা এখন মূলধারার অংশ। তাদের অবহেলা করে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই ‘নিঃশব্দ যোদ্ধাদের’ কণ্ঠস্বর শোনা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।








