- কাউনিয়ায় প্রাণনাশের হুমকি প্রতিপক্ষের
বরিশালের কাউনিয়ায় চলাচলের পথ বন্ধ করে জোরপূর্বক গৃহ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার আমিরগঞ্জের কাগাশুরা গ্রামের সোহেল তালুকদার (৪০) ও রুবেল তালুকদার (৩৫) এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন নেছারউদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নেছারউদ্দিন প্রতিপক্ষের দখল ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কাউনিয়া থানা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে সুবিচার চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে যানা যায়, ভুক্তভোগী নেছারউদ্দিন সিকদার (৫৫) ও নাসিরউদ্দিন সিকদার (৪৫) আপন দুই ভাই। নেছারউদ্দিন সিকদারের বয়স যখন ১০ বছর তখন ছোট ভাই নাসিরউদ্দিনের বয়স আড়াই বছরের সময় পিতা সিরাজউদ্দীন সিকদার মারা যান। পিতার মৃত্যুর পরে প্রতিপক্ষরা কৌশল-জোরপূর্বক নেছারউদ্দিনের মায়ের কাছ থেকে জমির দলিল নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়ির আশেপাশের গাছপালা কেটে নিয়ে বিক্রি করে দেয়।
এ বিষয়ে নেছারউদ্দিন সিকদার বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁরা (সোহেল ও রুবেল তালুকদার) পূর্বপুরুষানুক্রমে আমাদের এতিম ও দুর্বল পেয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে। আমাদের বাড়িতে বড় চাচার ঘরে সর্বহারা নেতা প্রয়াত আ. আব্দুল রাজ্জাক মেম্বার ঘর জামাই থাকতো। চাচা মারা যাওয়ার পরে আমাদের এতিম ও দুর্বল পেয়ে আমাদের সহায় সম্পদ আত্মসাৎ করে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্য আ. রাজ্জাক মেম্বার নানারকম যড়যন্ত্র শুরু করে এবং আমার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২৭ শতক জমির দলিল নিয়ে যায়। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে।
নেছারউদ্দিন দাবি করেন, অভিযুক্তদের আমাদের বাড়িতে কোনো জমি নেই। তারা বিনা দলিলে গায়ের জোরে আমাদের ৩২ শতক জমি ভোগ দখল করে খাচ্ছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষের বিভিন্ন সময়ের অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমরা বাড়িতে না থাকায় আমাদের জমিতে জোরপূর্বক মুরগির ফার্ম দেয়। ফার্ম সরাতে বললে, আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখায়। বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করিলে পুলিশের সহায়তা অবৈধ ফার্মটি উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে কাউনিয়া থানায়। বিদ্যমান পূর্ব পুরুষের পদধূলিতে ধন্য চলাচলের পথের মধ্যেই সকলের বাঁধা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী কায়দায় বিল্ডিং তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশদের মাধ্যমে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গত ৩১ শে জানুয়ারি ২০২২ এ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা দায়ের করি। মামলা নং প্রি-৪৪/২২। পরবর্তীতে নেছারউদ্দিন সিকদার আবারও ডিএম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-এমপি-১১১/২০২২। এ ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষরা নেছারউদ্দিন সিকদারকে জীবনাশের হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষ এমন অভিযোগে গত ২২ অক্টোবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এনিয়ে আইনগত সহায়তার জন্য উদ্ধর্তন মহলের দৃষ্টিগোচরসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নেছারউদ্দিন সিকদার।
এ বিষয়ে ৩নং চরবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাতাব উদ্দিন সুরুজ বলেন, দু'পক্ষই একই বাড়িতে বসবাস করে। নেছারউদ্দিন ও নাসিরউদ্দিন সিকদার শান্তসৃষ্ট মানুষ। সোহেল ও রুবেল তালুকদারের বাবা রাজ্জাক মেম্বার এ বাড়িতে ঘর জামাই ছিলো। সোহেল তালুকদার ও রুবেল তালুকদারের আচরণ তেমন একটা ভালো না।
এ বিষয় অভিযুক্ত সোহেল তালুকদার বলেন, সিকদার বাড়িতে আমরা যে জমিজমা ভোগদখলে আছি তা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। আমার আপন মামা মোসলেম উদ্দিন সিকদারের কাছ থেকে ২৯ শতাংশ জমি ক্রয় করি। আমরা জোরপূর্বক কোনো জমি দখল করি নাই। আর জমিজমা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঝামেলা চলছে। এমনকি মামলা মকদ্দমাও হয়েছে।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকুল হোসেন বলেন, জমিজমার বিরোধের বিষয় লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলাম। এ এস আই কামরুল আহসানকে তদন্তে পাঠানো হয়। তদন্তে পাওয়া যায়, বিবাদী সোহেল তালুকদার, রুবেল তালুকদার, মাসুম ও মুরাদ মিলে মামলার বাদি নেছারউদ্দিন সিকদারকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।









