ইসলামে দোয়া এমন এক ইবাদত, যা মানুষের হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি মহান আল্লাহর দরবারে পৌঁছে দেয়। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে একটি বিশেষ দোয়া আছে, যা ‘ইসমে আজম’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, এই দোয়ায় আল্লাহ তাআলার এমন কিছু মহান গুণবাচক নাম উল্লেখ রয়েছে, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এই নামগুলো দিয়ে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়।
দোয়াটি হলো—
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ، بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদা, লা-ইলাহা ইল্লা আনতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা কেবল তোমারই জন্য। তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পরম দয়ালু। তুমি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। হে মহিমাময় ও সম্মানিত সত্তা, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
এই দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। সাহাবি হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের পর এই দোয়া পড়লে মুহাম্মদ (সা.) বলেন- সে ইসমে আজম দ্বারা দোয়া করেছে; যে নামে আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যে নামে তাঁর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দান করেন।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, দোয়াটি শুধু শব্দের সমষ্টি নয় বরং এটি আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর একত্বের স্বীকৃতি এবং তাঁর মহিমা বর্ণনার এক অনন্য সমন্বয়। তাই আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়া করলে আল্লাহ তাআলার রহমত ও কবুলিয়াত লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
দৈনন্দিন জীবনে নামাজের পর, তাহাজ্জুদে বা যেকোনো দোয়ার মুহূর্তে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে। আল্লাহর কাছে বিনম্রভাবে চাইলে তিনি অবশ্যই বান্দার ডাকে সাড়া দেন এই বিশ্বাসই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
(আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৯৫, তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৭৫)









