ইসলামে পবিত্রতা অর্জন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা নিজে পবিত্র এবং তিনি তাঁর বান্দার পবিত্রতাকে ভালোবাসেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে গোসলের মাধ্যমে নিজেদের সম্পূর্ণ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ৬)
সহবাস, স্বপ্নদোষ, নারীজাতির হায়েজ-নেফাসসহ কিছু নির্দিষ্ট কারণে গোসল ফরজ হয়। এসব অবস্থায় নামাজ, কোরআন স্পর্শ ও তিলাওয়াত এবং তাওয়াফ ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করা যায় বলে ফিকহবিদদের অভিমত।
সহবাসের পর কোন কাজগুলো হারাম এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সহবাস বা স্বপ্নদোষের পর গোসল ফরজ হয় এবং গোসল না করলে কিছু কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ:
সহবাসের পর যেসব কাজ করা হারাম
১. নামাজ আদায়:
গোসল ছাড়া সালাত আদায় করা বৈধ নয় এবং তা হবে না।
২. কোরআন স্পর্শ ও তিলাওয়াত:
অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা বা তেলাওয়াত করা হারাম।
৩. তাওয়াফ:
পবিত্রতা ছাড়া কাবা শরিফ তাওয়াফ করা জায়েজ নয়।
তবে অনেকের ধারণা, গোসল ফরজ অবস্থায় ঘরের জিনিসপত্র ছোঁয়া বা ঘরের কাজ করা নিষিদ্ধ এটি ভুল ধারণা।
হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত অবস্থায় নবীজি (সা.)-এর কাছ থেকে সরে গেলে, নবীজি (সা.) বলেছেন: ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো সত্তাগতভাবে নাপাক হয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৯)
এ ছাড়া গোসল করতে দেরি হলে ঘুমানোর বা খাবার আগে অজু করে নেওয়া সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) জানাবাত অবস্থায় খাওয়ার বা ঘুমানোর আগে অজু করে নিতেন। (সহিহ মুসলিম: ৩০৫)।









