জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে ড. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে মোর্শেদ হাসান খানকে অব্যাহতি না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ৫৬ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনীতি করার তথা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রাখে। একটি দৈনিক পত্রিকায় লিখিত একটি নিবন্ধে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের কারণে (নিবন্ধটি প্রত্যাহার, দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা সত্বেও) যদি তাকে চাকুরিচ্যুত করার মতো সিন্ধান্ত নেয়া হয়, তবে এটি হবে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত চাকুরীবিধিরও সুস্পষ্ট ব্যত্যয় হবে বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ঐতিহ্য এবং প্রচলিত বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অধ্যাপক ড মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরীচ্যুত করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আমরা ধরে নিব কেবল ভিন্ন মতের প্রতি আক্রোশের কারণেই এমনটি করা হচ্ছে কিন্তু কোনোভাবেই এটি কাম্য নয়।
তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকের স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় মোর্শেদ হাসান খান ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে এই শিক্ষকের বিরোদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এর প্রেক্ষিতে পরদিন অধ্যাপক মোর্শেদকে বরখাস্ত করার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও ওই লেখার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়।
পরে একই বছরের ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হলে মোর্শেদ হাসান খানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আইনি সুপারিশ করতে গত বছর ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে দায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশের পর বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা ও শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএফএম মেজবাহউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি ‘বিশেষ ট্রাইবুন্যাল’ গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ট্রাইবুনালের সুপারিশের ভিত্তিতেই অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আনন্দবাজার/এম.কে/মোর্শেদ হাসান









