গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের টোক নয়ন বাজারে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘মানবতার ঘর’। সেখান একটি বড়সড় আলমারিতে সাজানো আছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী। ওই আলমারী তথা ‘মানবতার ঘর’ থেকে যার যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিয়ে যাচ্ছেন লোকজন। অন্যদিকে অনেক সামথ্যবান ব্যক্তিরা সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী রেখে যাচ্ছেন মানবতার ঘর নামক আলমারিতে।
মহামারি করোনা ভাইরাসের ( কোভিট-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সমগ্র দেশব্যাপী অচলাবস্থা থাকার কারণে বিশেষ করে নিম্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা পড়েছেন মহা বিপাকে। লোক লজ্জা বা চক্ষু লজ্জায় অনেকেই মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারেন না।
এদিকে কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের উজুলী দিঘীর পাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন সবার কথা বিবেচনা করেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী দেওয়া ও নেয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি নিয়েছেন।
শুধুমাএ নিম্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং ছিন্নমূল মানুষের জন্যই নয়, বিশেষ করে যাদের খুবই প্রয়োজন তারাই সেখান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে যেতে পারবেন। অন্যদিকে যারা খাবার সামগ্রী এান হিসেবে দিতে চান, কিন্তু নাম প্রকাশ করতে আগ্রহী নয়, সেইসব লোকজনও সেগুলো রেখে যাচ্ছেন। আলোর প্রতিক হয়ে দাড়িঁয়েছে যেই ঘর মমতাজ উদ্দিন মাষ্টার এর নাম দিয়েছেন ‘মানবতার ঘর’।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন ‘দৈনিক আনন্দবাজার’ কে জানান, বর্তমানে এই মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে বিভিন্ন এলাকা লকডাউন থাকায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা অনেকেই খাদ্যের অভাবে দিনাতিপাত করছেন। ওইসব লোকের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন ঘরে খাদ্যের অভাব থাকলেও অন্যেও কাছে হাত পাততে পারেন না। এমন সব মানুষের কথা চিন্তা করেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। আর এই মানবতার ঘর নামক আলমারীতে সাজানো আছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। যার যতটুকু প্রয়োজন, আমি নিজ হাতে সেখান থেকে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে এই মানবতার ঘরের কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রতিটি দিনই বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন মানবতার ঘরে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কাপাসিয়া উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার ২০০ কেজি চাল দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আমানত হোসেন খাঁন দিয়েছেন ৫০০০ টাকা, একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা সামনের রমজান মাসের প্রথম ১৫ দিন সমস্ত খরচ বহন করবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন। এলাকার লোকজন আমাকে সর্বাত্মক ভাবে সহযোগিতা করছে।
তিনি আরো বলেন, প্রথম দিন আমার নিজের অর্থায়নে চাল, ডাল, আটা এবং পেয়াজ রেখেছিলেন। মানবতার ঘর চালু হওয়ার প্রথম দিন ২৯ ব্যাগ , দ্বিতীয় দিন ৩৫ ব্যাগ এবং তৃতীয় দিন ৪০/৪৫ ব্যাগ খাদ্য সামগ্রী এখান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দুপুর ১২টার পর থেকে লকডাউন থাকে, সেহেতু সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত তাদেরকে আসতে বলি।
মানবতার ঘর’র উদ্যোক্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন আরো বলেন, তার এই উদ্যোগ নিতে কোন খরচ করতে হয়নি। টোক নয়ন বাজারের এক স্ট্রিল ব্যবসায়ীর একটি বড়সড় আলমারী দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়েছিল। তিনি ওই আলমারিটি ব্যবহার করার জন্য ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুমতি নেন। অনুমতি পেয়েই তিনি সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে টোক নয়ন বাজারের এটি ঘরে স্থাপন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরুজ মিয়া জানান, মমতাজ উদ্দিন মাস্টারের এই উদ্যোগকে আমি সর্ব সম্মত ভাবে স্বাগত জানাই। আমি চাই এ রকম উদ্যোগ যেন দেশের সকল জায়গাতে নেওয়া হয়।
এদিকে প্রথম দিন অনেকেই তাদের সামর্থ অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রেখে গেছেন। করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সময়ে এ ধরনের একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ দেশব্যাপী নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরণের উদ্যোগ নিলে আমাদের সমাজের সকল শ্রেণীর সুবিধা বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ভালো থাকবে।
আনন্দবাজার/শহক









