কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভ্যাঁপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে। টানা ১৩ থেকে ১৪ দিন ধরে প্রখর সূর্য আর তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাপমাত্রা জনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে তীব্র রোদের তাপের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক, ঠেলা ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছেন না। অনেকে অলস সময় পার করছেন।
আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন। তীব্র গরমে বয়স্ক ও শিশুরা পড়েছে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে। একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত, পানি, আইসক্রিম খেয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের। বৃষ্টিহীন তীব্র গরমে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত নেই কোনো সুখবর। গেল এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় তাপমাত্রা গড়ে ৩৫ ডিগ্রি ওঠানামা করছে। আগামী তিন-চার দিন তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্রের উপর। এমন প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে উপজেলাবাসীর। এতে করে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সকলেই পুকুর-নদী, বিলে ছোটাছুটি করছে। অসহনীয় প্রচণ্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু, বয়স্কদের জ্বর-সর্দি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। তীব্র তাপদাহে কয়েকদিন থেকে উপভোগ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কিছুটা কমেছে। প্রচণ্ড গরমেই ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধও রেখেছেন। প্রচণ্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে কেউ কেউ গাছের তলে বাঁশের টং বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে আবার ঘন ঘন ঠান্ডা পানিতে গোসল করছে।
উপজেলার থেতরাই এলাকার ভ্যান চালক আনারুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছি না। গরমে কাজ করতে না পেয়ে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেতো। গরমের কারণে সারাদিনে ৩শ’ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। একই এলাকার জোসনা বেগম বলেন, প্রচন্ড গরম পড়ছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে থাকায় যায়না। গা জ্বলে। আমার তিন নাতি নাতনির গত কয়েকদিন থেকে জ্বর-সর্দি ও কাঁশিতে ভুগছে। জানিনা কবে বৃষ্টির দেখা মিলবে। উপজেলার তবকপুর বাজারের ভ্যান চালক জংলু ও আকাব্বর হোসেন জানান, ভ্যান চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। গত কয়েকদিন ধরে এত তাপদাহ সহ্য করার মত নয়। পেটে খেলে সব কিছুই সহ্য করতে হয়। তাই প্রচন্ড গরমেই ভ্যান চালাচ্ছি। এক আধটা ক্ষ্যাপ মেরে আবার গাছ তলায় ভ্যানের মধ্যেই বসে শুয়ে একটু দম নেই।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যেবক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মিয়া জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। আগামী ২০ জুলাই এরপর একাধারে দু থেকে তিন দিন বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর তাপমাত্রা ক্রমাগতভাবে কমে আসবে।









