সাঁকোর নিচ দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। তবে সামান্য বৃষ্টি হলেই লুঙ্গি পরে পার হয়ে জামাকাপড় পরতে হয়। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ বোঝেনা
পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ী। প্রতি বছর বর্ষায় পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনের শিকার হয় নদী পাড়ের বাসিন্দারা। জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়াতে ভাঙ্গনের তীব্রতা বরাবরই বেশি।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেপারি পাড়া, নুরু মন্ডলের পাড়া, ইদ্রিস মিয়ার পাড়াসহ পদ্মার কোল ঘেঁষা ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য নৌকা ও শুস্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটাপথই একমাত্র ভরসা। বর্ষার সময় এসব গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকে। সে সময় নৌকাতেই উৎপাদিত ফসলের পণ্য ও মানুষ পারাপার হয়ে উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। তখন ১০ গ্রামের লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
গত ৩ বছর আগে এলাকায় একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিজ অর্থায়নে (দুই লাখ টাকা ব্যায়ে) একটি বাঁশের সাঁকো তৈরী করেন। সাঁকোটি নির্মাণের পর এলাকার সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগের সাময়িক ব্যবস্থা হয়। তবে তিনি মারা যাবার পর আজ পর্যন্ত সাঁকোটি আর মেরামত হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা কেও ব্যবহার করছে না।
সরজমিনে দেখা যায়, তিন বছর আগে প্রয়াত ইউপি সদস্য নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত অর্থায়নেযে সাঁকোটি তৈরি করে দিয়েছিলেন সেখানে দিনের বেলাতে মানুষ এখন কাপড় শুকাতে দিচ্ছে। এলাকার শিক্ষার্থী ও পথচারিরা সাঁকোর নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ভয়ে কেউ বাঁশের সাঁকোতে উঠছে না।
শিক্ষার্থী মো. জনি বলেন, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করতো। সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে। আমাদের এলাকায় কোনো স্কুল কলেজ না থাকায় প্রতিদিন উপজেলায় পড়তে যেতে হয়। বাঁশের সাঁকোটি এখন চলাচলের অযোগ্য। সাঁকোর নিচ দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। তবে সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাফেরা করা যায় না। লুঙ্গি পড়ে পানি পার হয়ে শুকনা জায়গায় উঠে আবার জামাকাপড় পড়তে হয়।
কৃষক মোস্তফা বেপারী বলেন, চর থেকে উৎপাদিন ফসল তুলে এনে উপজেলায় বিক্রির জন্য নিতে হয়। সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার আসে, তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। তাছাড়া গত বছর ইঞ্জিনিয়ার এসে মাপঝোঁক করলো কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমাদের কষ্ট দুঃখ কেউ বোঝেনা।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহমান মন্ডল জানান, এটি আসলে পদ্মা নদী বিধৌত এলাকা। প্রতি বছর নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে এলাকাটি। তাই স্থায়ী ভাবেকোন কিছু করাটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও খুব দ্রুতই বাঁশের সেতুটি সরিয়ে এখানে স্থায়ীভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারের উপর মহলে জানানো হয়েছে।









