ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা অনেক। এ পণ্যের ৮০ শতাংশই রফতানি হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে। সম্প্রতি প্রচলিত এ বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। আবার অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও পোশাক রফতানি কমছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ক্রমেই বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছিল ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, পোশাক রফতানির অপ্রচলিত হিসেবে বিবেচিত বাজারের দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য। এর মধ্যে বেশি রফতানি হয় জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত ও রাশিয়ায়। এগুলোর মধ্যে ভারত ছাড়া বাকি চার দেশেই পোশাকের রফতানি কমেছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাপানে রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিকে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে দেশটিতে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে দেশটিতে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রফতানির পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে ।
বৈদেশিক বাণিজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারভেদে নতুন বাজারগুলোর সমস্যা ভিন্ন। আর এর মধ্যে শুল্ক ও অশুল্ক সব ধরনের সমস্যাই রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মুদ্রা বিনিময় মূল্যের হার রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে পোশাক ক্রয়ে ক্রেতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে তৈরি পোশাক উৎপাদন হচ্ছে না, এ কারণটিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
আনন্দবাজার/ইউএসএস









