বিআইডিএস জরিপ--
- করোনায় ৪০ থেকে নেমে ১৬ শতাংশ
করোনার সময়ে নগর দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা করোনার আগে ছিল মাত্র ৯.৫২ শতাংশ। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সময় প্রথম লকডাউনের সময়ের তুলনায় এ হ্রাস পেয়ে ৩৬ শতাংশে নেমে ছিল। ওমিক্রনের সময় তা আরো হ্রাস পেয়ে ২১ শতাংশ নামে এবং বর্তমান স্বাভাবিক সময়ে এ হার ১৬.৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তথা (বিআইডিএস)। ১৮৯১ জনের নমুনা নিয়ে এক জরিপ জালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে বিআইডিএস।
গতকাল সোমবার বিকেলে আগাঁরগাওয়ের বিআইডিএস সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা’ বইয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে তবে করোনার সময়ে দারিদ্রের হারে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। বর্তমান সময়ে এলিট শ্রেণির মধ্যে নিয়মনীতিহীনভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রবণতা রয়েছে এবং তা হচ্ছেও বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে চুয়িয়ে পড়া অর্থনীতিতে কৃষিতে, পোষাকে ও বিদেশে কর্মীরা তাদের হিস্যা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্ত আলোচনায় সিপিডির ডিস্টিংগুইস ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১১ সাল থেকে দ্রততার সাথে আয় বৈষম্য বাড়ছে। নীতির ক্ষেত্রে একটিতে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদিকে লোটেরাদের সুযোগ দিয়ে বৈপরিত্ত অবস্থা নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আলোচকদের মধ্যে সিপিডির ডিস্টিংগুইস ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিতে মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ মানুষ নিয়োজিত থাকলেও জিডিপিতে মাত্র ১৩ শতাংশ অবদান রাখছে। ফলে এটা ট্রেপে আটকে যাচ্ছি কিনা সে প্রশ্ন তুলেন।
বইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে বইটির লেখক রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, একদিকে জিডিপি বাড়ছে অন্যদিকে কর্মসংস্থান কমছে। তাছাড়া প্রকৃত মজুরি গত বিশ বছরে সামান্য বেড়েছে। কর্মসংস্থানমুখি প্রবৃদ্ধি ঘটাতে সেদিকে মনযোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যলেখক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, দেশের ৮৫ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ধান চাষ করা হয় এখন। আর এতে প্রচুর শ্রমের প্রয়োজন হয়। অর্থনীতির অগ্রগতিতে এই কৃষকদের নায়ক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। পোশাক কারখানার শ্রমিকদেরও নায়ক হিসেবে আখ্যা দিন তিনি। আর তৃতীয় নায়ক হলো প্রবাসি শ্রমিকরা। এই তিন নায়কের হাত ধরে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তবে সামনে উন্নত দেশ হতে হলে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার। বিনিয়োগ স্থবিরতাতে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। আরেক চ্যালেঞ্জ হলো প্রবাসি আয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা।









