ইউক্রেন-রাশিয়ার চুক্তিতে আমদানি-রপ্তানি সচল
গমের দাম-সরবরাহ কম
- মে মাসে প্রতিটন ৪৩৮ ডলার
- জুলাইয়ে প্রতিটন ৩৪২ ডলার
- গমের ভারতের দরজা খুলেছে
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলা বাজার থেকে দুই কেজি আটা কিনেছেন আহমাদ। এতে তাকে কেজিতে ৫৫ টাকা করে দিতে হয়েছে। খোলা বাজারে নেই কোনো আটা জানান দোকানদার নাজমুল। সেই আহমাদ রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল ও সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারেও খোলা আটা পাননি। অথচ দেশে গম আমদানি অব্যাহত আছে। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য বিক্রির ব্যাপারে ঐক্যমত হয়ে চুক্তিও করেছে। এই চুক্তির ফল ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছবে কিনা প্রশ্ন অনেকের।
গত অর্থবছরের শেষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গমের আমদানি বেশ কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে মাত্র ৪০ লাখ টন গম। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে গম আমদানি ছিল ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার টন। তার আগের বছর গম আমদানি হয়েছিল ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন। রপ্তানি কমায় দেশে গমের মজুত গত মাসে ১৬ হাজার ৬০০ টনে নেমে এসেছে। যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গম আমদানির বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম।
গতকাল শনিবার দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বেড়েছে পুরোনো এলসির গম আমদানি। আমদানি বাড়ায় বন্দরে কমেছে গমের দাম। প্রতি কেজি গমের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে পাইকারদের মাঝেও।
চলতি বছরের ১২ মে হঠাৎ করে গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। তবে এর আগের করা এলসির গম রপ্তানি করার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ জটিলতায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেশ কয়েদিন গম আমদানি বন্ধ থাকার পর ২৯ মে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় পুরোনো এলসির গম আমদানি। শুরুর দিকে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও এখন তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি বাড়ায় বন্দরে কমেছে গমের দাম। প্রতি কেজি গমে ৫ থেকে ৬ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা দরে।
হিলি আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, হিলি বন্দরে আগের এলসি করা গম আমদানি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এখন আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক বলেন, ২৬ কর্মদিবসে ভারত থেকে ৩৬১টি ট্রাকে পুরোনো এলসির ১৪ হাজার ১৬৪ মেট্টিক টন গম আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ফসল বিক্রির চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে কমছে গমের দাম। কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারের হালনাগাদ তথ্য দেওয়া বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৭ মের পর থেকেই নিম্নমুখী গমের বাজার। ২৯ জুলাই বিশ্ববাজারে প্রতি টন গম বিক্রি হয়েছে ৩৪২ ডলারে। মে মাসে প্রতি টন গমের দাম বেড়ে উঠেছিল ৪৩৮ ডলারে।
এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হলে দেশেও দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন আটা-ময়দার দাম ৫১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা ৪৮-৫৫ টাকা ও ময়দা ৬২-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একবছর আগে যথাক্রমে ৩৩-৩৫ এবং ৪২-৪৫ টাকা ছিল। এই খবরে দেশের পাইকারি বাজারে গমের দাম কমেছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে কমেছে আটা-ময়দার দামও। বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটার দাম ২ হাজার ১শ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১ হাজার ৭শ টাকা। বস্তাপ্রতি ময়দার দামও কমেছে প্রায় ২০০ টাকা।









