মনু নদীর চরে আখ চাষ করেন আব্দুর রহিম। সেখানে ১২০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আখ উৎপাদন করেছেন। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে আখ কেটে রস বিক্রি করেন। সনাতন পদ্ধতিতে আখ প্রক্রিয়াজাত করে গুড়তৈরি করছেন। এখন পর্যন্ত ৩০ শতক জমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৯১২ লিটার রস বিক্রি করেছেন। প্রতিলিটার ২০ টাকা দরে যার বাজারমূল্য ৫৮ হাজার ২৪০ টাকা। এখনও বাকি রয়েছে ৯০ শতক জমির আখ উত্তোলন। সবমিলিয়ে এবার বেশ ভালো ফলন হয়েছে। হাজীপুর ইউনিয়নের শুকনবী গ্রামে প্রায় ৩০ জন কৃষক এবার আখের চাষ করেছেন। প্রতিনিয়ত কমছে আখ চাষির সংখ্যা। তবে বেড়েছে আখের রস ও লালিগুড়ের চাহিদা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা আখের রস, লালি ও গুড় কিনতে এসেছেন। উৎপাদিত আখ থেকে সনাতন পদ্ধতিতে রস প্রক্রিয়াজাত করে লালি ও গুড় তৈরি করা হয়। প্রতিকেজি গুড় বিক্রি করা হয় ১২০ টাকা দরে। লালি প্রতিলিটার ১০০ টাকা। প্রতিবছর আখের চারা বিক্রি করা হয় প্রতি পিস ৩ টাকা দরে। আখের রস বের করার পর বাকি অংশ প্রক্রিয়াজাত করতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
আখচাষি তোয়াহিদ আলি বলেন, এবার আখ চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত বেশ আয় করেছি। আরও কাটার বাকি রয়েছে। সবমিলিয়ে আখ চাষ বেশ লাভজনক। আখ চাষে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। আখের রস কিনতে আসা ক্রেতা ইরফান আলী জানান, এখানে একদম খাঁটি আখের রস পাওয়া যায়। শীতের মৌসুমে আখের রস দিয়ে পিঠা তৈরি করে খেতে বেশ আনন্দদায়ক। প্রতিবছর আমরা আখের রস কিনতে আসি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারাদিন আখকেটে বিকেলে মাড়াই করে বড় পাত্রে জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ আখ মাড়াই করে রস সংগ্রহ করছেন। কেউ আবার রস কড়াইয়ে ঢালছেন। রস ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে রাখা হচ্ছে। গুড় তৈরি হয়ে গেলে সেটি আলাদা রাখা হচ্ছে। আখের গুড় তৈরি করতে সবাই বেশ কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। কুলাউড়ার আখ চাষিরা আরও সফল হতে কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছেন।
আনন্দবাজার/এম.আর








