দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ঝুঁকিরমাত্রা আগের তুলনায় কমেছে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় শতভাগই ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। ওই সপ্তাহে টপটেন লুজার তালিকায় ৬০ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট। এছাড়া লুজার তালিকায় ১০ শতাংশ ‘বি’, ২০ শতাংশ ‘জেড’এবং ১০ শতাংশ ‘এন’ক্যাটাগরি শেয়ারের অবস্থান করেছে। এই ধরনের চিত্র, সবাই স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ক্যাটগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। আবার যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া ‘এন’ ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ক্যাটাগরি তালিকায় রয়েছে।
ডিএসইর সূত্রমতে, গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫১ শতাংশ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য পিই রেশিও এক ঘরের সংখ্যা নিরাপদ। এই নিরাপদ সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত ধরা যেতে পারে। তবে ১৫ সংখ্যার ঊর্ধ্বে চলে গেলে বিনিয়োগে ঝুঁকিরমাত্রা বাড়তে থাকে। ডিএসইর পিই রেশিও বর্তমানে ১৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা নিরাপদ অবস্থানে এখনো আসেনি। ডিএসইতে বিনিয়োগ মাত্রা কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। এছাড়া বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের ১১ দশমিক ৬০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৩ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৫ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২০ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২০ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২১ দশমিক ২০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ২২ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২৪ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৬ দশমিক ৬০ পয়েন্ট, সিরামিক খাতের ৩২ দশমিক ৬০ পয়েন্ট, পেপার খাতে ৩৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট, চামড়া খাতের ৩৬ দশমিক ৬০ পয়েন্ট এবং ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ১৬৩ দশমিক ৯ পয়েন্টে পিই রেশিও অবস্থান করছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮১টির বা ২০ দশমিক ৯৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ক্যাটাগরির এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ওই সপ্তাহের লেনদেনে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৩২ দশমিক ৭৬ টাকা। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। ওই সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯৫টির বা ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘এন’ ক্যাটাগরির একমি পেস্টিসাইডের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে। ওই সপ্তাহের লেনদেনে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার দর কমেছে ১৯ দশমিক ৬৯ টাকা। এ কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।
ওই সপ্তাহে টপটেন গেইনারের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ১২ দশমিক ২১ শতাংশ, স্টাইল ক্রাফট ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ, সোনালী পেপার ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জনতা ইন্স্যুরেন্স ইন্স্যুরেন্স ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









