মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় লেবু আনারস চাষাবাদের উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় বারো মাস আনারস ও লেবু চাষ হয়ে আসছে। এখানকার আনারস আর লেবুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে। এখানে বছর জুড়েই আনারাসের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের লেবুর চাষ হয়। এসব লেবুর মধ্যে জারা, আদা লেবু, কাটাঁ লেবু, কাগজি ও চায়না লেবুর ফলন হয়। এসব আনারস ও লেবু শ্রীমঙ্গলের আড়ৎ থেকে পাইকারি দরে কিনে নেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা। পাইকারদের হাত ধরেই শ্রীমঙ্গলের আনারস ও লেবু ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।
এ অঞ্চলের পাহাড়ি ও টিলায় উর্বর মাটিতে আনারসে ও লেবুর ফলন বেশি। গত বছর ২৭ হাজার টনের উপরে লেবু উৎপাদন হয় মৌলভীবাজার জেলায়। চলতি বছরও লেবুর ফলন ভালো।
এর পরও রোজার শুরুতে বাজারে লেবুর দাম বেড়ে হয় ৩ গুন। চাষি ও লেবু ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে লেবুর চাহিদা বেশি হওয়ায় ও তীব্র খরায় ফলনে খরচ বেশি পড়ায় বেড়েছে লেবুর দাম।
জানা যায়, রমজান মাসে লেবুর চাহিদা বাড়ায়, বেশি দামে বিক্রির জন্য লেবু চাষিরা মাস খানেক আগ থেকে গাছ থেকে লেবু পাড়া বন্ধ করে দেন। গাছে স্টক করা সেই লেবু রোজার আগের দিন থেকে বাজারে তোলা হয়। তখন আর আগের দাম থাকে না। দাম বেড়ে হয় তিন-চারগুন। রোজার আগে যে লেবু ১০ টাকা হালি দরে বিক্রি হতো সেই লেবু রোজা শুরুতেই দাম বেড়ে প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। রমজান আসতেই লেবুর দাম দ্বিগুন হয় কেনো জানতে চাইলে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাচাউন গ্রামের লেবু চাষি যুবলীগ নেতা সাইদ আলী জানান, বছরের এ সময়ে অনাবৃষ্টিতে লেবু গাছে পানি ও সার দিতে খরচ হয় দ্বিগুন। বাগানে কামলার রোজও বেশি দিতে হয়। তাই লেবুর দাম কিছুটা বেশি।
লেবু বাগানের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি লেবু আড়তে চলে যায়, সেখানে যে দর পাই তার তুলনায় বাজারে লেবুর অনেক বেশি।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, মৌলভীবাজার জেলায় এ বছর ১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে কাগজি লেবুর চাষ হচ্ছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ২৭ হাজার ২০০, ৩২ মেট্রিক টন লেবু।









