বর্তমান সরকারের কাজের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। মেগাপ্রকল্পের পর মেগাপ্রকল্প। যা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অর্জন দেখা না গেলেও এর সুফল আসবে সামনের দিনগুলোয়। এমনই একটি সংবাদ দিয়েছে দৈনিক আনন্দবাজার। উত্তরে শিল্পের স্বপ্নযাত্রা। আগামী বছরই আসছে উত্তর জনপদের শেষ জেলা নীলফামারীর সৈয়দপুর পর্যন্ত গ্যাস। এক অকল্পনীয় স্বপ্ন পূরণ। ঐ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে রংপুরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের। সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র। বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ, রংপুর হয়ে নীলফামারী জেলার শিল্পাঞ্চল খ্যাত উপজেলা সৈয়দপুরে পৌঁছাবে গ্যাস লাইন। নীলফামারীতে গড়ে উঠেছে ইপিজেড, যেখানে বেশ কয়েকটি দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগে রপ্তানি মুখী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই ইপিজেড বদলে দিয়েছে মংগা পুরা রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের চেহারা। ইপিজেডেই শেষ নয়, নীলফামারী জেলাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে স্থল বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। চিলাহাটি বর্ডার দিয়ে ভারতের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ চালু হয়েছে।
নিয়মিত মালামাল পরিবহন চলছে। এতসবকিছুর পরও দুরাশা থেকেই গেছে। এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নেই। ফলে ভারী শিল্প স্থাপনের সব সুবিধা বিরাজমান থাকলেও শিল্প উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত গুটিয়েছেন। করতে পারছেন না কিছুই। ছোট, মাঝারি, এবং হাতে, বিদ্যুৎ মেশিনে করা যায় এমন সব কারখানাই গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। ঐ এলাকায় বড় শিল্প স্থাপনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে না। স্থানীয় উদ্যোক্তারা হতাশায়। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত জমি কিনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বেড়ে ২০২২এর ডিসেম্বর করা হয়। এখন বলা হচ্ছে ২০২৩ এর জুনে প্রকল্প কাজ শেষ হবে। সেভাবেই কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস সংযোগের ৫০ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এই গ্যাস সংযোগের বিষয়টি এখনো স্বপ্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নিতে বিলম্ব করেন না। কিন্তু দুভোগ্য আমাদের দেশের আমলাতান্ত্রিক কাজের। যে প্রকল্পই হাতে নেয়া হোক না কেন বিলম্বিত হওয়া ছাড়া নিস্তার হয় না। এই বিলম্বের নানান অজুহাত থাকে। যেসব অজুহাত এড়ানো সম্ভব তারপরও এড়ানো হয়না কেন?
এ প্রশ্নের জবাব মিলবে না। অথচ উদ্যোক্তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পথে বসার যোগাড়। অনেকে ব্যাংকের ঋণ নিয়ে দিশেহারা। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা এসব ভাবেন না। এসবের বালাই নেই। যার ফলশ্রুতিতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। কল কারখানা গড়ে উঠতে চায় না। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে পেরেশান হয়ে যান। এ বিষয়গুলো ভাববার সময় এসেছে। দেশ এখন আগের অবস্থায় নেই। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন ভিন্ন অবস্থানে। সে অবস্থান ধরে রাখতে মানসিকতা বদলাতে হবে। আমলাতান্ত্রিক বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।









