বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯)। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের সংকটকে ঘিরে বিশ্বের পুঁজিবাজার ও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এ অস্থিরতাকে ‘অশনি সংকেত’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (৯মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রতিটি অঞ্চলের পুঁজিবাজারে বিরাট ধস নেমেছে। অপরদিকে তেলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সৌদির একতরফা সিদ্ধান্তের জন্য তেলের দাম প্রায় বিশ শতাংশ পড়ে গেছে। সোমবার দিনভর বিশ্ব পুঁজিবাজারের এ অবস্থা বিরাজ করার পর দিনটিকে ‘ব্ল্যাক মানডে’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের পুঁজিবাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় ৭ শতাংশ দাম পড়ে যায়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপের সব বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জে সারাদিন ধরে একের পর এক ধস নেমেছে।
এদিকে পুঁজিবাজারের মত একই রকম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তেলের বাজারেও। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে সমস্যায় ফেলার লক্ষ্য হঠাৎ করে সৌদি আরব ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক দেশগুলো নিজেরাই তেলের উৎপাদন অনেক বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এর কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ায় তেলের উৎপাদন খরচ বেশি ফলে অল্প দামে খুব বেশিদিন তেল বিক্রি করতে পারবে না তারা। তাই সোমবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমে ৩১ ডলারে নেমে যায়। যা ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর একদিনের মধ্যে তেলের দাম এতটা কখনো কমেনি।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অর্থনৈতিক সংবাদদাতা অ্যান্ড্রু ওয়াকার জানান, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটির বিরূপ প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে। এছাড়াও তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে তেল রফতানিকারক দেশগুলো তেলের দাম স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সূত্র- বিবিসি বাংলা।
আনন্দবাজার/এম.কে









