মহামারী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা সম্মিলিতভাবে হারিয়েছেন প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমার কারণে বিনিয়োগকারীরা এই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শেয়ারবাজারের সব থেকে বড় মূলধনী কোম্পানিটির শেয়ারের এমন দরপতনে সার্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকেরা। আর এমন অবস্থার জন্য করোনাভাইরাস আতঙ্ককে দায়ী করছেন তারা।
বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রম শনাক্ত হয় মার্চের ৮ তারিখ। তবে এর আগেই বিশ্ব শেয়ারবাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা শুরু হয়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দাম কমতে থাকে। আর ৮ মার্চের পর দফায় দফায় শেয়ারবাজারে ধসের ঘটনা ঘটতে থাকে।
তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম কমতে শুরু করে ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখের পর থেকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি টেলিযোগাযোগ খাতের এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সা। যা টানা কমে শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে ২৫ মার্চ দাঁড়ায় ২৩৮ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে প্রায় ৮০ টাকা ৮০ পয়সা। এতে সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১০ হাজার ৯১০ কোটি ৪২ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক সদস্য জানান, গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনের কোম্পানি। সূচকের ওপর এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়া বা কমায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে গোটা মার্চ জুড়েই শেয়ারবাজারে একের পর এক বড় দরপতন হয়েছে। গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম বড় অঙ্কে কমে যাওয়া এই দরপতন আরো তরান্বিত করেছে।
১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি। কোম্পানিটির এই শেয়ারের ৯০ ভাগ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। এ হিসাবে দরপতনের কবলে পড়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা হারিয়েছেন ৯ হাজার ৮১৯ কোটি ৩৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির বাকি শেয়ারের মধ্যে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এ হিসাবে গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিদেশিরা হারিয়েছেন ৪২২ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ৪৩৫ কোটি ৩২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ২৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আনন্দবাজার/তা.তা









