নড়াইলে চলতি বছর ব্যাপকহারে গলদা চিংড়ি চাষ হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে ব্যাপক হতাশ চিংড়ি চাষিরা। স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ভালো দামে চিংড়ি বিক্রি করতে না পেরে ব্যাপক লোকসান গুনছেন তারা।
চিংড়ি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস। কিন্তু বর্তমানে চিংড়ি উৎপাদনে দেশের পঞ্চম স্থানে থাকা এই জেলায় আগামীতে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফলে দিন দিন নড়াইলে গলদা চিংড়ি চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনা মহামারির মধ্যেই জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি ঘেরে চলতি বছর প্রচুর পরিমাণে গলদা চিংড়ির চাষ হয়েছে। কিন্তু মাছের আকার দেখে চাষিরা খুশি হলেও আড়তে ভালো মূল্য না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন তারা।
জেলার তুলারামপুর, চাচুড়ী, বাশগ্রাম, মির্জাপুর, মাইজপাড়াসহ নানা আড়তে প্রতিদিন মণকে মণ চিংড়ি আসলেও মাছ কিনে লোকসান গুণছেন ব্যাপারীরা। আড়তগুলোতে প্রতিদিন শত শত মণ মাছ কেনাবেচা হলেও ব্যাপারীরা ব্যাপক হতাশ।
এ বছর মাছের ফলন বেশি হওয়ায় নতুন করে কয়েকটি এলাকায় আড়ত বসেছে। বাঁশগ্রাম বাজারে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি আড়তে গড়ে দৈনিক ৩০-৪০ মণ মাছ আসছে। এসপি নামের মৎস্য আড়তের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা শফিউল আজম পাশা বলেন, এলাকায় গলদা চিংড়ির ফলন বেশি হয়েছে। তবে চলতি বছর কোম্পানিগুলোর কারণে চিংড়ি চাষি কিংবা ব্যাপারী কেউই লাভবান হচ্ছে না।
স্থানীয় বাঁশগ্রামের মাছ ক্রেতা শরীফুল ইসলাম জানান, আমরা এখান থেকে মাছ কিনে তা খুলনা এবং চট্টগ্রাম পাঠাই। সেখান থেকে কোম্পনির লোকরা যে মূল্য দেয় তাই নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে কম দামে মাছ কিনেও তাতে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.ফারুকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর করোনায় সরকারি সহজ ঋণের কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে। চিংড়িতে ইউরোপের বাজার খোলা থাকলেও কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করেছে। জেলায় সরাসরি রফতানিকারকের মাধ্যমে মাছ ক্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা ভালো মূল্য পাচ্ছে না।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









