অষ্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী জাতের আপেল কুল চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আব্দুস সালাম। ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রবাস ফেরত সালাম ২৫ শতক জমিতে কুলের চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ৮ মাসের মাথায় সবকটি গাছেই থাকায় থোকায় কুল ধরেছে। বর্তমানে অনলাইনে প্রতিসপ্তাহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার কুল বিক্রয় করছেন। দিন যতোই যাচ্ছে কুলের চাহিদা ততোই বাড়ছে।
সালামের কুলের বাগান দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক যুবক। এ মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপলে কুল ছেয়ে আছে। ফলের ভারে গাছসহ ডালগুলো নিচের দিকে নুয়ে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে প্রতিটি গাছ। পাখি ও চোরের হাত থেকে বরই রক্ষায় পুরো বাগান চারপাশে জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বাগানের এক পাশে উঁচু করে মাচা করে রেখেছেন। এ ধরনের বড়ই চাষ করে আব্দুস সালাম এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কুমড়াকাপন গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুস সালাম। ভাগ্য বদলের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার ৩ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। খালি হাতে দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর আব্দুস সালাম আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদে নানা ধরনের চেষ্টা করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তার ছোট ভাই সাবেদ আলীর সহযোগিতায় মেহেরপুর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ১৬০টি কুলের চারা সংগ্রহ করেন। চারা রোপনের পর ১০টি চারা মারা যায়। সালাম ও তার ভাই সাবেদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরিচর্যায় মাত্র ৮ মাসের মাথায় ডিসেম্বরে সবকটি গাছেই কুল ধরে। এখন প্রতিটি গাছে ঝুলছে পাকা কুল। কুল বেচে ভাগ্য বদলানোর আশায় আব্দুস সালামের মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি আশা করছেন, প্রায় এক লাখ টাকার অধিক বল সুন্দরী কুল বরই বিক্রি করতে পারবেন। তবে এ কুল চাষে তেমন খরচ নেই বলে জানান সালাম। শুধু চারা সংগ্রহ করতেই একটু সমস্যা।
আব্দুস সালাম ও তার ভাই সাবেদ আলী বলেন, ‘ফেইসবুক ও ইউটিউব দেখে উদ্যোগ নেই আমরা। এরপর সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুল চাষের জন্য ২৫ শতাংশ জমিতে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ শুরু করি। ভাবিনি এতো ফলন হবে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে কষ্ট করে হলেও আরো বড়ভাবে চাষের চেষ্টা করবো। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার উপকার হবে এবং সহজেই বড় পরিসরে বল সুন্দরী কুল বরই চাষ করতে পারবো। অনলাইনে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা বাজারে তুলিনি।
এদিকে কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ জানান, কুল চাষি আব্দুস সালামকে পৌরসভার পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, ’আমরা আব্দুস সালামকে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
আনন্দবাজার/এম.আর









