বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দেদারে মেলা চলছে। দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনকেও কোনোরূপ তোয়াক্কা না করেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে মেলা। যা নিয়ে খবর বেরিয়েছে দৈনিক আনন্দবাজারে। শুধু তাই নয় খবরে জানা যায়, এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এই করোনা মহামারি চলাকালেও গত দেড় বছরে ৭৫৭টি মেলা করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। যেসব মেলায় এক হাজার ৫৯ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে এ ধরনের মেলা আয়োজনের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে।
করোনাকালে মেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার সুযোগে মেলা নিয়ে এই নৈরাজ্য বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও দেশের প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই মেলা বাণিজ্যের সুবিধাভোগী। মেলা নিয়ে এ বাণিজ্যে গুটিকয়েক সুবিধাভোগী মানুষ হাজার হাজার থেকে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন। আয়োজকরা প্রচলিত বিধিবিধান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে সুকৌশলে উপেক্ষা করেছেন। এসব মেলায় সবচেয়ে বেশি নাম ব্যবহার হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের। আবার বিসিকের নামও কোনো কোনো জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেদের দোষ আড়াল করতে চাইলেও যা ঘটেছে তার দায়দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। এটাই বাস্তবতা। মেলা করার যা নিয়ম আছে সে নিয়ম ভঙ্গ করার সুযোগ সরকারি কোনো বিভাগের নেই। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা চেম্বারগুলোও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যদিও যথাযথ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ বিব্রত অবস্থায় পড়েছে। তারপরও বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন। বিধিবিধান মেনে সারাদেশে মেলা চলবে এনিয়ে কারো আপত্তি নেই। কারণ এই মেলায় দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ।
অনেক পণ্য আছে যা মেলা করার মাধ্যমে তাদের গ্রাহক তৈরি বা গ্রাহকের দৃষ্টিতে যেতে সক্ষম হয়। মেলা ছাড়া ঐসব পণ্যের বাজারজাতকরণের সুযোগ নেই। এছাড়া এই মেলার উপরে দেশের অর্ধ কোটি মানুষের তথা অনেক পরিবারের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। এই করোনাকালে এদের অনেকেরই দুঃসহ জীবন কাটাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মেলা বন্ধ রেখে আবার ভিন্নভাবে সুবিধাভোগীদের মেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়াটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বিধি মেনে সবাইকেই মেলা করার সুযোগ থাকতে হবে। না মেলা নিয়ে যেমন নৈরাজ্য লক্ষ্যনীয় তেমনি মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বড় অংশের মানুষ দুরাবস্থার মধ্যে নিপতিত হবে। এমনিতেই করোনা মহামারিতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলেও মেলা সংশ্লিষ্ট মানুষ কোনোরূপ প্রণোদনার আওতায় আসেনি।
শুধু এটাই নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ফলে এ বিষয়ে যে পর্যায়েই ভুল থাকুক না কেন, তা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যথাযথভাবে মেলা চলতে হবে।









