সেন্ট্রাল অ্যামাজন অঞ্চলে পেরুর আদিবাসী গ্রাম শিপিবোর ৭৫০ অধিবাসীর প্রায় ৮০ শতাংশই কভিড-১৯ আক্রান্ত। নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত করেছে ইলিয়াস মাগিন নামের নার্সকেও। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আরেকজন নার্স ও এক সহকারীকে নিয়ে গ্রামের ৬০০ জনেরও বেশি কভিড-১৯ রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাগিন।
বর্তমানে পেরুর বাস্তবতার জ্বলন্ত উদাহরণ শিপিবো। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির হিসাবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজার কভিড-১৯ রোগী নিয়ে বিশ্বে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে পেরু। দেশটিতে সংক্রমণের হার প্রতিদিন অবিশ্বাস্য হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক গুইলার্মো গালদোস, যিনি শিপিবো ঘুরে এসেছেন।
হাজার হাজার বছর ধরে শিপিবো আদিবাসীরা আমাজনের গহিনে বসবাস করে আসছে। এই ভূমিই তাদের আয়ের উৎস। কাঠুরে ও বিদেশী আক্রমণকারীরা তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করার চেষ্টা করে থাকলেও এর বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা টিকে রয়েছে। কিন্তু নতুন এক শত্রুর হানার মুখে পড়েছে তারা, যার দয়া খুবই কম: কভিড-১৯।
স্থানীয় নার্স ইলিয়াস মাগিন নিশ্চিত করেছেন, কাইমিতো অঞ্চলের শিপিবো গ্রামের ৮০ শতাংশ মানুষের মাঝে করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এখান থেকে সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে যেতেও নৌকায় লাগে আট ঘণ্টা!
গালদোস বলেন, মে মাসের শেষ দিকে আঞ্চলিক রাজধানী পুকালপা থেকে আট ঘণ্টার নৌকা ভ্রমণ শেষে শিপিবোতে গিয়ে তারা দেখতে পান, কাইমিতোর অস্থায়ী এক ভবনের সামনে সকাল ১০টার দিকে লাইন দিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে আদিবাসীরা। মাগিন তাদের জানান, ‘সরকার আমাদের যে ওষুধ দিয়েছিল তা গত তিনদিনে শেষ হয়ে গিয়েছে, যে ওষুধ অবশিষ্ট তা অন্য রোগীদের। এমনকি আমাদের কাছে প্যারাসিটামলও নেই।’
আনন্দবাজার/এফআইবি









