- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার জারি
- ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল
- বছর শেষে দিতে হবে আর্থিক বিবরণী
আগে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের যোগ্যতার মাপকাঠিতে কমপক্ষে ৬০ ভাগ নম্বর না পেলে ঋণ দেয়া হতো না। এটা এখন ৫০ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ প্রাপ্তি এবং ঋণ নবায়নের যোগ্যতা আরও একবার শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের যোগ্যতার মাপকাঠিতে কমপক্ষে ৬০ ভাগ নম্বর না পেলে ঋণ দেয়া হতো না। এটা এখন ৫০ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে। নতুন ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ৪০ শতাংশের কম পয়েন্ট পেলে গ্রাহক ঋণ পাওয়ার অগ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবেন। এই ধরনের গ্রাহকদের নতুন ঋণ দেওয়া যাবে না। এতদিন যা ছিল ৪৫ পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন গ্রাহকদের বছর শেষে আর্থিক বিবরণী তৈরি করে তা ব্যাংকে দিতে হয়। আর্থিক বিবরণীতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে আগের নিয়মে ৭৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট পেলে অতি উত্তম, ৬৫ শতাংশের বেশি থেকে ৭৫ শতাংশের কম পেলে ভালো, ৫৫ শতাংশের বেশি থেকে ৬৫ শতাংশের কম পেলে প্রান্তিক এবং ৫৫ শতাংশের কম পেলে অগ্রহণযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবেন। তবে ৪৫ শতাংশের কম পেলে তিনি আর নতুন ঋণ পাবেন না। যা নতুন সার্কুলারে কমানো হয়েছে।
করোনার কারণে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এই মান অনেকের পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নীতিমালাটি শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই নীতিমালা শিথিল করেছে। এখন থেকে অতি উত্তম ও ভালো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একই মান রাখা হয়েছে। তবে প্রান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি থেকে ৬৫ শতাংশের কম পেলে প্রান্তিক এবং ৫০ শতাংশের কম পেলে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে গড়ে ৪০ শতাংশের কম পেলে তিনি আর ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, অতি উত্তম গ্রাহকদের নতুন ঋণ দেওয়া ও আগের খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে কোনো বাধা থাকবে না। ভালো গ্রাহকদের নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। প্রান্তিক গ্রাহকদের খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে সতর্ক হতে হবে। তাদের নতুন ঋণ দেওয়া যাবে না। আগের খেলাপি ঋণ নবায়ন করা যাবে। তবে কোনো গ্রাহক ৪০ শতাংশের কম পয়েন্ট পেলে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবেন। তিনি নতুন ঋণ পাবেন না। আগের খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে পারবেন।
সার্কুলারের বিধিবিধান এখন থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সার্কুলারটি বাতিল বলে গণ্য হবে। ওইদিন থেকে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের সার্কুলারের বিধিবিধান কার্যকর হবে।
ব্যাংকাররা জানান, গত দুই বছর ঋণ পরিশোধেরও শর্ত শিথিল করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক দিকে প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করে, পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি করা যাবে না এমন নির্দেশনা দেয়া হয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ অনেক ঋণ আদায় না করেও বা ন্যূনতম আদায় করে ঋণ নিয়মিত দেখাতে হচ্ছে।
যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের শর্ত গত ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বড় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ ঋণ তেমন পরিশোধ করছে না, যদিও তাদের দখলে রয়েছে ব্যাংকের বড় অঙ্কের ঋণ। এর পাশাপাশি অন্য গ্রাহকদের একটি বড় অংশ ঋণ পরিশোধ করছেন না। তারা নানা উপায়ে ঋণ নবায়নের চেষ্টটা করছেন। তবে এর মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।









