- ডিজিটাল জনশুমারি চলে ১৩ হতে ২১ জুন
দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম ডিজিটাল আদম শুমারি তথা (বাংলাদেশের) ৬ষ্ঠ জনশুনামারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদন আজ বুধবার প্রকাশিত হচ্ছে। গত ১৩ হতে ২১ জুন সপ্তাহব্যাপী শুমারিটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে সিলেটে বন্যা হওয়ার কারণে ২৮ জুন পর্যন্ত সে অঞ্চলে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এতে প্রতিটি ব্যক্তিকে ৩৬টির প্রশ্নের তথ্য দিতে হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস এর পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শুমারিটি পরিচালনা করেন।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহান হোসেন এমপি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এমপি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস। বিবিএসের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন স্বাগত বক্তব্য রাখনে। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম। শুমারিটির প্রকল্প পরিচালক ছিলেন দিলদার হোসেন।
এ সময়ে বিভাগ, জেলা, উপজেলা হতে শুরু করে মৌজা ও গ্রাম পর্যন্ত দেশের সকল খানা, গৃহ ও ব্যক্তির তথ্যসংগ্রহ করা হয়। গণনা করতে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব বিতরণ করা হয়। ৩ লাখ ৭০ হাজার যুবক-যুবতীকে তথ্যসংগ্রহ করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ইতিপূর্বের গণনাগুলো আদম শুমারি বলে পরিচিত হলেও এবার থেকে জনশুমারি ও গৃহগণনা নামে পরিবর্তন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী জনশুমারিটি পরিচালনা করে। জনশুমারি সম্পর্কে জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘একটি দেশ বা সীমানাবেষ্টিত অঞ্চলের সকল ব্যক্তির জনতাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্য সংগ্রহ, সংকলন এবং প্রকাশের প্রক্রিয়াই হলো জনশুমারি’।
শুমারি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার যেমন-সিএপিআই অ্যাপ, ক্লাউভ সার্ভার, ওরাকল এক্সাডাটা সার্ভার, লোড ব্যালেন্সার, ১০জিবিপিএস ইন্টারনেট, ফাইবার অপটিক্যালে ক্যাবল প্রস্তুত ও ইনস্টল করা হয়। মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহে মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট-এমডিএম সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
তথ্যগুলো সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড-বিডিসিসিএল এর টিআইইআর আইভি সিকিউরিটি সমৃদ্ধ ডেটা-সেন্টার ব্যবহৃত হয়। বিডিসিসিএল হয়ে বিবিএস সার্ভারে আসার পূর্ব পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত সকল পর্যায়ে এনক্রিপটেড অবস্থায় থাকে।
জাতিসংঘের গাইডলাইন অনুযায়ী ৩টি পদ্ধতিতে জনশুমারি হয়ে থাকে, যথা- ১. ডি-ফ্যাক্টো পদ্ধতি অর্থাৎ খানার সদস্যকে শুমারির রাত্রিতে অবস্থানকালীন স্থানে গণনা করা। ২. ডি-জুরি পদ্ধতি অর্থাৎ খানার সদস্যকে নিজ নিজ খানায় গণনা করা এবং ৩. মডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো পদ্ধতি তথা ডি-ফ্যাক্টোর আওতার বাইরে যারা শুমারি রাত্রিতে ভ্রমণরত, হাসপাতাল ও হোটেলে থাকবেন বা কর্মরত থাকবেন তাদেরকে নিজ নিজ খানায় অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রতি ১০০টি খানা নিয়ে একটি গণনা এলাকা গঠন করা হয়েছিল। আর প্রত্যেক গণনাকারী প্রতিদিন ১০০-১২০ জন মানুষের কাছে তথ্যের জন্য যান। শুমারির কার্যক্রম ৪টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়, যথা-১. শুমারির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড, ২. মূলশুমারি পরিচালনা, ৩. শুমারি পরবর্তী যাচাই জরিপ পরিচালন এবং ৪. আর্থ-সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা।
শুমারির উদ্দেশ্য ছিল ১. দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যগণকে গণনা করে মোট খানা ও জনসংখ্যার হিসাব নিরুপণ, ২. দেশের সকল বসতঘর/বাসগৃহের সংখ্যা নিরুপণ, ৩. দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তথ্যসংগ্রহ, ৪. স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের জন্য তথ্য সরবরাহ ও ৫. জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহ করা।
‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের প্রথম আদমশুমারির ব্যবস্থা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন তিনি বলেন, “যথাযথ উন্নয়নের জন্যে নির্ভুল পরিসংখ্যান চাই”। প্রথম আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। ১৯৮১ সালের দ্বিতীয় গণনায় ৮ কোটি ৯৯ লাখ, ১৯৯১ সালের তৃতীয় গণনায় ১১ কোটি ১৫ লাখ, ২০০১ সালে চতুর্থ গণনায় ১৩ কোটি ৫ লাখ ও ২০১১ সালের পঞ্চম আদমশুমারিতে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ জনসংখা ছিল। পরবর্তী শুমারি ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি ও ট্যাব সংক্রান্ত বিষয়ে সময় পরিবর্তন করে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের পরিচালক (উপ-সচিব) মো. দিলদার হোসেন জানিয়ে ছিলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে ও বিশ্বে প্রথম ডিজিটাল শুমারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগে আদম শুমারি নাম থাকলেও বর্তমানে এটিকে জনশুমারি হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।








