- ১৫ লাখ টাকার চুক্তি
রাজধানীর শাহজাহানপুরে গুলিতে নিহত মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে দুবাই বসে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। গতকাল শনিবার কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
দুবাই বসে হত্যার পুরো ছক তৈরি হয় জানিয়ে খন্দকার আল মঈন জানান, টিপু হত্যার পরিকল্পনা ও শুটার নির্বাচন করেন মুসা। হত্যাকাণ্ড ঘটাতে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি হয়। পরে টিপুকে হত্যা করতে ওমর ফারুক নয় লাখ টাকা দেন মুসাকে। অপরদিকে নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ছয় লাখ টাকা মুসাকে দেন। হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন আগে মুসা দুবাই চলে যান। যাওয়ার সময় মুসা পাঁচ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। বাকি চার লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে মুসাকে পাঠান ওমর ফারুক। বাকি ছয় লাখ টাকা দেশে হস্তান্তরে চুক্তি হয়।
দুবাই বসে টিপু হত্যার পরিকল্পনা ও শুটার নিয়োগ করেন মুসা জানিয়ে তিনি জানান, টিপুর লোকেশন নিশ্চিত করতে টাইম টু টাইম তথ্য দেন শুটারদের। তবে টিপু হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হলেন মতিঝিলের বাসিন্দা রিজভী হাসান হত্যা মামলার আসামি ওমর ফারুক।
অভিযান চালিয়ে টিপু হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুক, নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও কাইল্লা পলাশকে গ্রেফতারের সময় র্যাব তাদের কাছ থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করে।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে খন্দকার আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডটি দেশে সংঘটিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই থেকে। দেশে থাকা নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশসহ আরও কয়েকজন টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন ধরে মুসার কাছে তথ্য পাঠাতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির আনুমানিক চারবার টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করেন। পরে টিপুর গ্রান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় গ্রেফতার মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ তাকে নজরদারিতে রাখেন। তার অবস্থান সম্পর্কে তিনি ফ্রিডম মানিককে অবহিত করেন। টিপুর অবস্থান সম্পর্কে জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুসার পরিকল্পনায় হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়।
ওমর ফারুক প্রসঙ্গে র্যাব জানায়, গ্রেফতার আসামি ওমর ফারুক টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও হত্যাকাণ্ড সংগঠনের জন্য অর্থ লেনদেন করেন তিনি। এদিকে ২০১৬ সালে রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত চার নম্বর আসামি তিনি। ওই মামলায় তিনি আগে কারাভোগ করেছেন।









