- শঙ্কায় চাষিরা
মেহেরপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গম, মসুরি ও তামাক ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার চাষিরা। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। ঘন্টাব্যাপি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় গম মাটিতে নুইয়ে পড়ে ও মসুরি ক্ষেতের ফুল ঝরে যায়। তামাক পাতা ছিড়ে গেছে এবং কলাক্ষেতের গাছ ভেঙ্গে গেছে। চাষিরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানালেও কৃষি অফিস বলছে, ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় বারি গম-৩৩,বারি গম ৩২ ও বারি গম ২৬ জাতের গমের আবাদ হয়েছে মোট সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। ভুট্টার আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর ও মসুরি আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে। চাষিদের আবাদি জমির গম এখন দানাবাঁধার সময়। তাছাড়া তামাক পাতা স্যাকার এখন মোক্ষম সময়। গোল আলু পচে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময়টি ফসলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়।
গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গম চাষি আব্দুল জলিল বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে বারি-৩৩ জাতের গম আবাদ করেছি। এ গম আমার সংসারের একমাত্র খাদ্যশস্য। প্রতিবছর গমের আবাদের ওপর নির্ভর করেই আমার পরিবারের জীবিকা। রাতে ঝড় বৃষ্টি থেমে যওয়ার পর মাঠে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি দুই বিঘা জমির সব গম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। একেবারেই শীষে দানা হবেনা। গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছিনা।
গ্রামের বেগুন চাষি ইদ্রিস আলী ইদু জানান, আমার ২৫ কাঠা জমিতে বেগুন আবাদ করেছি। বৃষ্টি ও ঝড়ে অনেক বেগুন গাছ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। রোদ হলেই দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বেগুন গাছ শুকিয়ে মারা যাবে।
ভুট্রা চাষি হাবিবুর রহমান জানান, একবিঘা জমিতে ভুট্টা ছিল। ভুট্টার সব গাছ বাতাসে হেলে পড়েছে। দানা হওয়ার আগেই গাছের গোড়া নড়ে যাওয়া ও শিকড় ছিড়ে যাওয়ায় আশানুরুপ দানা হবেনা ভুট্টায়। হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষতি হওয়া মসুরি ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত কৃষক ইউনুছ আলী
সদর উপজেলা বুড়িপোতা গ্রামের কলা চাষি মোরতুজা জনান, একবিঘা জমিতে কলা আবাদ করেছিলেন। প্রতিটি গাছেই কাধি হয়েছে। কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই ২৪ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে মেহেরপুর জেলায় ঝড়ো হাওয়া আঘাত হানে। ঝড়ের আঘাতে আমার কলা বাগানের অধিকাংশ গাছ মাঝ থেকে ভেঙ্গে গেছে । এঝড়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মুজিবনগরের শাকিল আহম্মেদ জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে গম ও এক বিঘা জমিতে মসুরি আবাদ করেছেন। গতকালের বৃষ্টি ও আর ঝড়ে গম মাটিতে পড়ে গেছে। মসুরি ক্ষেতের ফুল ঝরে গেছে। আমার দুটি আবাদেই চরম ফলন বিপর্যয় হবে। তিনি আরো জানান, তার জমির আশপাশের কয়েকশ বিঘা জমির গম মাটিতে ন্যুয়ে পড়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলি খাতুন জানান, উপজেলায় গমের আবাদ হয়েছে ৬৫০০ হেক্টর, ভুট্টা ৬৮০০ হেক্টর ও মসুরি হয়েছে ৫৫০০ হেক্টর। তিনি বলেন, যে গম একেবারেই মাটিতে পড়ে গেছে সেই সব জমির গমের ফলন খুবই কম হবে। তবে এখন অবজাভেশনের বিষয়। নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছেনা।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক একেএম কামরুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উঠতি বয়সের ফসল যেমন গম, ভট্টা ও মসুরি কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। গেল রাতে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে। এতে ভয়ের কিছু নেই। রাতে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হলেও সকালে রোদ উঠেছে। পড়ে যাওয়া ফসল অনেকটাই রোদ হলে উঠে দাঁড়াবে। তবে কয়েকদিন পরে বোঝা যাবে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়ে। ক্ষতি কমাতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।









