ফরিদগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় রূপসা আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নকল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক সামর্থ অনুযায়ী শিক্ষার্থী প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষকরা বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমর দাশ। পেশায় একজন শিক্ষক। শিক্ষক বাতায়ন গ্রুপে আমিনুল হক নামক এক শিক্ষকের একটা পোস্টের কমেন্ট বক্সে লেখেন, আপনার ভাষ্য যথাযথ। আমি ইংরেজি শিক্ষক। আমি এমন দেখছি, হলে নকল দেয়া বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলতে। যে স্যার নকল দিতেন তিনি কী পরিমাণ প্রাইভেট পড়াতেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। নিরূপায় হয়ে, আমি শহরে পড়াতাম। তাদের অন্যায় সহ্য না করতে পেরে চাকরি ছেড়ে অন্য স্থানে চলে আসছি। বর্তমান কর্মস্থলে ভালো আছি আগের তুলনায়। যে খারাপ তার শান্তি নাই। শিক্ষকের মন্তব্য থেকে এই প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে থাকেন। অবশেষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসে। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে আজকের এই প্রতিবেদন।
শিক্ষক সমর দাস কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কয়েক মাস আগে বিদায় হয়ে দালাল বাজার এন কে হাই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার লেখার সূত্র ধরে শিক্ষার্থীদের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কাছে গেলে রূপসায় এসএসসি কেন্দ্রে নকল সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় এখানে আরো বেশ কিছু অনিয়মের কথাও উঠে আসে। নিয়ম হচ্ছে কেন্দ্রে যে প্রতিষ্ঠনের শিক্ষার্থী আছে সে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু রূপসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত হল সুপার সেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন।
কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক মো.বাকী বিল্লাহকে রূপসা কেন্দ্রে রিজার্ভ কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে রাখা হয়। তবে তিনি প্রয়োজন ছাড়াই প্রতিদিন পরীক্ষার হলে পরিদর্শন করে আসছেন। একই প্রতিষ্ঠানের খন্ডকালিন এক শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ার শর্তে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রূপসা কেন্দ্রে গিয়ে জানতে চাইলে হল সুপার রূপসা আহম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরামুল হক প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করতে চাইলেও সহকারী হল সুপার শওকত বিএসসির জোরালো প্রতিবাদের মুখে পড়েন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাকী বিল্লাহ রির্জাভ কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে আছেন। তিনি গতকাল (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডিউটি দিয়েছেন। আপনারা যে অভিযোগ নিয়ে আসছেন এটা অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে কঠিন ভূমিকা পালন করেছেন এবং বাকী বিল্লাহ এবং সমরেন্দ্র মিত্রকে বের করে দেন। সেই সঙ্গে আমাদের বলে দিয়েছেন তারা যেন আর হলে প্রবেশ করতে না পারে। ওইদিন কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেটও এসেছিলেন।
জানতে চাইলে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র মিত্র বলেন, রাখ-ঢাক করে আসলে লাভ নাই। ঘটনা সত্য, তবে আপনারা যতটুকু শুনেছেন ততটুকুও নয় আবার একেবারেই যে হয়নি তাও নয়।’ পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কে টাকা খায়না বলেন?’ এ সময় পাশে বসে থাকা বাকী বিল্লাহকে তিনি বলেন, তুমি উনাদের দুই হাজার টাকা দিয়ে দেও।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানই দেখেন, অন্যগুলো দেখেন না? সব কেন্দ্রে এবং প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হয়।
তবে অভিযুক্ত বাকী বিল্লার বলেন, বিষয়টি মিথ্যা। যে আপনাদের তথ্য দিয়েছে সে ভুল তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই নেক্কারজনক। সেই সাথে দুঃখজনকও। এটা চরম নৈতিক অবক্ষয়। আমরা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘ তথ্য দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









