করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশেগুলোতে নারীরা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কোনো সেবা না পাওয়ায় বেড়েছে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের হার। আর তার সাথে বেড়েছে নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ।
আজ মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক মাসে কয়েক লাখ নির্যাতনের মামালা হতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে করোনার রোগীদের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বেশি। এছাড়া, করোনা সংক্রমণের ভয়েও অনেকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাচ্ছেন না। তাই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন খুব অল্প সংখ্যক নারী। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যহত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে গর্ভনিরোধক ওষুধের বড় ধরণের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। লকডাইনের এ সময়ে নারী পুরুষ সকলকে একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘরে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারীরা।
এই সময়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নারীরা। মহামারির কারণে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ তীব্রতর হয়েছে। এখন লাখ লাখ নারী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিতে পারছেন না। ফলে, তারা শারীরিক নির্যাতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতেও পারছেন না। পারছেন না নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে।
বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ১১৪টি দেশে প্রায় চার কোটি সত্তর লাখ নারী আধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। এই লকডাউন যদি আরও ৬মাস চলে, তবে আরও ৭০লাখ নারী অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের শিকার হবেন। যেটা স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে ওই সব দেশে একটি বড় ধরণের বিপর্যয় আনতে পারে। লকডাউনের প্রতি তিন মাসে নতুন করে আরও বিশ লাখ নারী অধুনিক গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণে অক্ষম হবেন।
ইউএনএফপি’র নির্বাহী পরিচালক ডা: নাটালিয়া কানেম জানান, যে কোন মূল্যে প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি নারীর সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার রক্ষা করতে হবে। এই সেবা অবশ্যই চালু রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা এবং গর্ভনিরোধক সামগ্রী সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এই অসহায় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিতে হবে।
আনন্দবাজার/রনি









