- ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ
- র ক্যানভাস বারের বিরুদ্ধে মামলা
প্রতিনিয়ত রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে জনগণের গচ্ছিত আমানত জমা হচ্ছে না রাজস্ব ভাণ্ডারে। তেমনি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ‘র ক্যানভাস বার’ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা। ওই অভিযানে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করেছে সরকারি এ সংস্থাটি। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
‘র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট এন্ড বার’ গুলশান এভিনিউর ( গুলশান ২) আরএম সেন্টারের ৪র্থ তলায় অবস্থিত। মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিয়ে মদ, মদ জাতীয় দ্রব্য এবং রেস্টুরেন্টের খাবার সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত সেবা বিক্রি গোপন করে চালান ছাড়াই সেবা দিয়ে দীর্ঘদিন ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ভ্যাট গোয়েন্দার কাছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়েছিল।
অভিযানের শুরুতে ভ্যাট গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভ্যাট সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি চায়। তখন উপস্থিত কর্মকর্তারা কোম্পানির বিভিন্ন দলিলাদি এবং মাদক দ্রব্যের মজুদ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত রেজিস্টারে উল্লেখিত মজুদের পরিমাণের সঙ্গে ওয়্যারহাউজ এবং দুটি কাউন্টারে রাখা দেশি-বিদেশি মাদক দ্রব্যের তথ্য যাচাই করেন গোয়েন্দারা। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এবং কম্পিউটারে ধারণ করা তথ্যাদি যাচাই করে। তল্লাশিতে সেবা বিক্রি সংক্রান্ত লুকানো কিছু বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব তথ্য ভ্যাট দলিলাদির সঙ্গে ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেয়া যায়।
‘র ক্যানভাস বার’ প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী ৬ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৮২১ টাকার বিক্রয় মূল্য (সম্পূরকশুল্ক এবং মূসকসহ) যার উপর ৭৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৩ টাকা ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে প্রতিষ্ঠানটি গুলশান ভ্যাট সার্কেল-৪ এ দাখিলপত্রের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। এক্ষেত্রে ৭৪ লাখ ৮ হাজার ৩১৪ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। এই ফাঁকির ওপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ৮৭ হাজার ৬৮৯ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়মূল্যের ওপর ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ১৪৮ টাকা সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য।
তবে প্রতিষ্ঠানটি গুলশান সার্কেল-৪ এ দাখিলপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার ১৩৫টাকা সম্পুরক শুল্ক পরিশোধ করেছে। এক্ষেত্রে ৮৬ লাখ ৫২ হাজার ১৩ টাকা সম্পুরক শুল্ক ফাঁকির তথ্যও পাওয়া যায়। এই ফাঁকির উপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১ লাখ ১ হাজার ৬৩২ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য। এছাড়া সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির রেজিষ্ট্রার অনুসারে কম মদ ও মদজাতীয় পণ্য মজুদ থাকায় এক্ষেত্রে ভ্যাট বাবদ ৩৭ হাজার ৪০৪ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৪১ হাজার ৫৬০ টাকা প্রযোজ্য হবে।
তদন্ত অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাট এর পরিমাণ ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৮ টাকা, সম্পুরক শুল্ক বাবদ ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭০৮ টাকা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২১ টাকাসহ মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৭ টাকা সরকারি রাজস্ব পরিহারের তথ্য প্রমাণ পায়। এছাড়া ভ্যাট আইনের নির্দেশনী উপেক্ষা করে হাতে লেখা কাঁচা চালান ইস্যু করতে দেখা যায়। ইএফডি স্থাপন করা সত্ত্বেও ক্রেতাদের মূসক-৬.৪ দেয়নি। এটি ভ্যাট আইনের লংঘনজনিত অপরাধ। ওই বারে যেকোনো খাবারের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য। এ সংক্রান্ত সোমবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









