সোনালু ফুল---
প্রকৃতির এক অপার অলংকার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ আর তালাশ করে না তার। গ্রীষ্ম ঋতুতে গাছের শাখা প্রশাখা জুড়ে থোকা থোকা পুষ্পমঞ্জুরি সোনালী হলুদ ফুলে ঢেকে যায় গাছ। সোনাঝরা এই ফুলের বাংলা নাম সোনালু অথবা বানরলাঠি বা বাঁদরলাঠি। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের এ ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। এই হলুদ বরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রাখতো এক সময় প্রকৃতির চারপাশ।
উপজেলাজুরে কিছু বছর আগেও বেশ ক’টি এই সোনালু গাছ এক সময় চোখে পরতো। সময়ের বিবর্তনে গাছ গুলো এখন আর কেউ রোপন করেনা। তবে বন জঙ্গলে এ বৃক্ষটি তার ফলের বীজ থেকেই প্রকৃতিক নিয়মে ঝোপ জঙ্গলে জন্মাতো। নির্বিচারে কর্তণের ফলে এই বৃক্ষটি এখন বিলুপ্তির পথে। আগামী প্রজন্ম হয়তো বলতেই পারবেনা এই ফুলের নাম বা কথা। এ গাছের লম্বা ফল যাকে বান্দর লাঠি বলা হতো সে গুলো গাছ হতে পেরে অনেকেই খেলায় মেতে উঠতো। এক সময় রাস্তার দুই পাশেই প্রচুর সোনালু বৃক্ষ নিজ সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকতো। আজ তা কেবলই স্মৃতি! বৃক্ষটি খুব কমই দেখা মেলে উপজেলাজুড়ে।
সোনালু ফুল গাছের বাকল এবং পাতার ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। এ গাছের বাকল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, হেফাপ্রোটেক্টিভ গুনাগুন রয়েছে। এটি ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভেষজ ঔষধি সম্পন্ন এ সোনালি ফুলগাছ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ায় তাকে আর তেমন দেখা যায় না।
জানা গেছে, বনবিভাগের কর্মকর্তারাদেরও এ বৃক্ষটির চারা তৈরি ও রোপনের কোনো উদ্যোগ নেই। সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সামাজিক বন বিভাগ কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে তিনি বিষয়টি নজরে আনার জন্য দৈনিক আনন্দবাজারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি দ্রুত উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দূর্লব সোনালু বৃক্ষটির রোপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সোনালু বৃক্ষটি আজ অতীত, বর্তমানে কেউ রোপন করেনা। ফলে এটি এখন মাঝে মধ্যে চোখে পড়লেও সেটি সংখ্যায় খুবিই কম। সোনালু ফুল গাছ রক্ষার্থে জনসাধারণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। না হলে একদিন সত্যি ইতিহাস হয়ে যাবে বহু গুণে গুণান্বিত সোনালু ফুল গাছ।









